2 / 3আমরা এখানে কিভাবে এলাম? (পর্ব ১) · ৩ অধ্যায়

১.২ ঈশ্বর কি বিস্তারিতভাবে আছেন?

পৃথিবীকে অস্তিত্বে রাখার জন্য পরিস্থিতির এক আশ্চর্যজনক নিখুঁত মিশ্রণ প্রয়োজন। এটা কি সুযোগ নাকি নকশা?

আপনার প্রশ্ন

বাইবেলের উদ্ধৃতি

শেয়ার করুন
রোমীয় 1:20

সাধারণত তাঁর অদৃশ্য গুন অর্থাৎ তাঁর চিরকালের শক্তি ও ঈশ্বরীয় স্বভাব পৃথিবীর সৃষ্টির দিন থেকে তাঁর নানা কার্য্য তাঁর সৃষ্টি থেকেই মানুষ বুঝতে পেরেছে। সেইজন্য তাদের কাছে উত্তর দেবার জন্য কোনো অজুহাত নেই।

ইন্ডিয়ান রিভাইজড ভার্সন (IRV) - বেঙ্গলী

BEN-IRV Creative Commons License Indian Revised Version (IRV) - Bengali (ভারতীয় সংশোধিত সংস্করণ - বাংলা), 2019 by Bridge Connectivity Solutions Pvt. Ltd. is licensed under a Creative Commons Attribution-ShareAlike 4.0 International License. This resource is published originally on VachanOnline, a premier Scripture Engagement digital platform for Indian and South Asian Languages and made available to users via vachanonline.com website and the companion VachanGo mobile app.

আরও পড়ুন...
বিনামূল্যের রিসোর্স

বাইবেল আরও গভীরভাবে বুঝতে চান?

আমাদের বাইবেল অধ্যয়নে যোগ দিন

ট্রান্সক্রিপ্ট

Bengali (Indian) (বাংলা)
মানুষ প্রায়ই ধরে নেয় যে বিজ্ঞান এবং বিশ্বাসের মিল নেই, আপনাকে যে কোনো একটি বেছে নিতে হবে। অথবা কেউ বলতে পারে, এই বিশ্বাস বিষয়টি আকর্ষণপূর্ণ, কিন্তু আমি বিজ্ঞানেরই পক্ষে। আমার মনে হয় না এটির এত স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। যেমন আমি অনেককে জানি, যারা বিজ্ঞানের প্রকৃত অনুরাগী, কিন্তু তারা ঈশ্বরবিশ্বাসী। আমি একথাও জানি যে বিশ্বাস থাকা মানে বিজ্ঞানকে অবহেলা করা নয়। বস্তুত, মহাবিশ্বের অনেক গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্ব এবং আবিষ্কার ধর্মবিশ্বাসী মানুষের হাতেই হয়েছে। ব্লেজ প্যাস্কাল, আইজ্যাক নিউটন এবং রবার্ট বয়েল এদেরই মধ্যে কয়েকজন। মানুষ যখন বিজ্ঞান এবং ধর্মের পার্থক্য নিয়ে বিতর্ক করে, অধিকাংশই স্বীকার করবে যে তারা মহাবিশ্বকে বোঝার চেষ্টা করে। বিজ্ঞান আমাদের কীভাবে এবং কখন বুঝতে সাহায্য করতে পারে, সেখানে ধর্ম আমাদের কে এবং কেন তা খুঁজতে সাহায্য করে। আমরা বিজ্ঞানের যত গভীরে যাব, তত বেশি আবিষ্কার করব জীবনের অস্তিত্ব কত অবিশ্বাস্য এবং অসম্ভব। যেমন ইংরেজ পদার্থবিজ্ঞানী পল ডেভিস। তিনি বলেন যে পদার্থবিদ্যার সূত্রগুলি এক অত্যন্ত উদ্ভাবনী নকশার ফল বলে মনে হয়। অন্য কথায়, আমাদের চারপাশের বিশাল সৌরমণ্ডল থেকে আমাদের শরীর গঠনকারী বিচিত্রভাবে জটিল কোষ পর্যন্ত সর্বত্রই এক নির্দিষ্ট নকশা এবং উদ্দেশ্য দেখা যায় যা চরম বিশৃঙ্ক্ষলতার পরিবর্তে সবকিছু সুশৃঙ্ক্ষল রাখে। আপনার দেখা বৃহত্তম সাউন্ড ডেস্কের কথা ভাবুন, যেমন আপনি কোনো কনসার্টে দেখেন। আরো নির্দিষ্টভাবে, একটি ঘর ভর্তি সাউন্ড ডেস্ক, আমরা শয়ে শয়ে ডায়াল, বাটন এবং স্লাইডারের কথা বলছি। যে মহাবিশ্বে প্রাণের সম্ভাবনা আছে, সেখানে প্রতিটি ডায়াল, বাটন এবং স্লাইডারকে নির্দিষ্ট স্থানে থাকতে হবে। ধরা যাক এক নম্বর স্লাইডার পৃথিবী আর সূর্যের দূরত্ব নিয়ন্ত্রণ করে। একটু কাছে ঠেলা দিলেই পৃথিবী পুড়ে যাবে একটু দূরে ঠেলা দিলেই পৃথিবী জমে যাবে। মাধ্যাকর্ষণে সামান্য হেরফের হলেই তা আমাদের সূর্যের দিকে অথবা অন্ধকারে নিয়ে যাবে। অক্সিজেনের মাত্রা সামান্য হেরফের হলেই জীবনের অস্তিত্ব থাকবে না। মার্কিন বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস কলিন্স বুঝিয়েছেন যে মহাবিশ্বে ১৫ টি ধ্রুবক রয়েছে, যেমন মাধ্যাকর্ষণ, আলোর গতিবেগ, এবং জলের স্ফুটনাঙ্ক। প্রত্যেকটি ধ্রুবকের সুনির্দিষ্ট মান আছে। আর এই ধ্রুবকের কোনো একটিও যদি ০.০০০০০১-ও বৃদ্ধি পায়, মহাবিশ্বে কেবল মানব জীবন থাকবে না তাই নয়, গ্রহ নক্ষত্রও না থাকতে পারে। সুন্দর দিক হল, আমাদের এই গ্রহ অত্যন্ত সূক্ষ্ম ভারসাম্যের উপর বেঁচে আছে। কেবল একটি পরিবর্তনই বিপর্যয় ডেকে এনে, সমগ্র মানবজীবনকে শেষ করতে পারে। তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী এবং নাস্তিক স্টিফেন হকিং একবার বলেছিলেন, আমাদের মহাবিশ্বের বিরুদ্ধে মতবাদগুলি হল সুবিশাল যেমন তা বিগ ব্যাং-এর মত কিছুর থেকে উদ্ভুত। তিনি বলেছিলেন এর ব্যাখ্যা কঠিন যে মহাবিশ্বের সূচনা এইভাবে কেন হয়েছিল যদি না তা ঈশ্বরের অবদান হয় যার উদ্দেশ্য ছিল আমাদের মত জীবের সৃষ্টি করা। প্রজন্মের মধ্যে বিরল এক প্রতিভার এই বিবৃতি তাৎপর্যপূর্ণ । তবে হকিং-এর প্রতি ন্যায়নিষ্ঠ হলে, যদিও তিনি মহাবিশ্বর জটিলতা বুঝতে ঈশ্বরকে সম্ভাব্য উত্তর হিসাবে স্বীকৃতি দিলেও, তিনি অন্যান্য প্রতিভাধর বিজ্ঞানীদের সঙ্গে কাজ করেছিলেন বিকল্প ব্যাখ্যার প্রস্তাব দেওয়ার জন্য। কিন্তু আমি আশ্চর্য হয়ে যাই এই ভেবে যে কত কী প্রয়োজন কেবল মহাবিশ্বের অস্তিত্বের জন্যই। আর আমার চারপাশের সৌন্দর্য দেখলে বাইবেলে ভাববাদী পৌলের একটি পংক্তি মনে পড়ে। তিনি বলেন, বিশ্ব সৃষ্টির সময় থেকে মানুষ মাটি ও আকাশকে দেখেছে। ঈশ্বর সৃষ্ট সবকিছুর মাধ্যমে, তারা তাঁর অদৃশ্য গুণগুলি স্পষ্ট দেখতে পায়, তাঁর অনন্ত শক্তি এবং ঐশ্বরিক প্রকৃতি। এখন, অবশ্যই আমাদের অস্তিত্ব নিয়ে সুযোগ অথবা সম্ভাবনা থাকতে পারে, কিন্তু তা বাঁদরের টাইপ করার মত অসম্ভব এবং ঘটনাচক্রে তা শেকস্পিয়রের একটি সনেটের জন্ম দেয়। তাই আমাদের দুটির মধ্যে একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হতে হবে। হয় আমাদের অস্তিত্ব রয়েছে অত্যাশ্চর্য সুযোগের ফলে অথবা শ্বাসরোধকারী নকশার।
JesusFilm