নিজের জীবন নিয়ে আপনি কী করবেন?
যদিও কোনো কোনো মানুষের জিভের আগায় উত্তর থাকে।
আমি একজন ডাক্তার হব।
আমি একজন সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানী হব।
আমি একজন বিমানচালক হব।
আমার ক্ষেত্রে, আমার কাজের ব্যাখ্যা প্রায়ই এক বিচিত্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
আমি মানুষের সঙ্গে ঈশ্বর ও বিশ্বাসের কথা বলি।
মাঝে মাঝে এটা ভালো লাগে
কারণ এটি আমরা কি বিশ্বাস করি সেবিষয়ে একটি কথাবার্তার সূত্রপাত করে
আর অন্য সময় আমার ভয় হয়
কারণ আমাকে ধর্মান্ধ অথবা যাজক হিসাবে চিহ্নিত করলে আমি আতঙ্কিত হই।
ঈশ্বরের অস্তিত্বের বিপক্ষে যুক্তি সর্বত্রই আছে।
বই, ওয়েবসাইট এবং সব ধরনের মানুষই এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে পারে।
আমি যুক্তির অন্য দিকটিকে দেখাতে এবং এক সৎ কথোপকথন শুরু করতে চাই
আস্থা এবং বিশ্বাসের প্রশ্নে যা নিয়ে আমাদের সকলের দ্বন্দ্ব হয়।
তাহলে আসুন একটি প্রশ্ন দিয়ে শুরু করি
আমরা কীভাবে এখানে এলাম?
অথবা আরো স্পষ্টভাবে, সব কিছু কীভাবে এলো?
কেউ বা কিছু কি এই সবকিছু সৃষ্টি করেছে নাকি নিজের থেকেই সব শুরু হয়েছে?
এটা কি সম্ভব যে এই মহাবিশ্ব বরাবরই ছিল
যার কোনো শুরু নেই আর শেষও নেই
এইসব প্রশ্ন দার্শনিকদের বিভ্রান্ত করে চলেছে
এবং বিজ্ঞানীদের চ্যালেঞ্জ করছে হাজার হাজার বছর ধরে।
প্লেটোকে দেখুন।
তিনি ইতিহাসের এক অন্যতম প্রভাবশালী দার্শনিক।
তাঁর যুক্তি ছিল, আপনি যদি কোনো কিছুকে চলতে দেখেন, তাহলে কিছু নিশ্চয়ই তাকে চালনা করছে
আর ইতিহাসের ধারায় প্রতিটি গতিশিলতা সন্ধান করলে,
সব গতির উৎসের খোঁজ পাবেন।
ধরুন, আপনি বাড়িতে জানালার দিকে তাকিয়ে আছেন
আর দেখলেন একটি বল আপনার দিকে উড়ে আসছে।
আপনি কি ধরে নেবেন যে বলটি সব সময়েই গতিশীল হয়ে,
মহাবিশ্বের চারপাশে পাক খাচ্ছে?
আরো খারাপ, বলটি আপনার জানালা ভেঙে ভিতরে চলে এল।
আপনি কি প্রথমে ভাববেন, "বাহ, মনে হয় বলটা সবসময়েই গতিশীল ছিল।"
না, সেটা পাগলের মত হবে।
আপনি বরং যা ঘটল তার পিছনের কারণ খুঁজবেন।
অথবা ধরুন আপনি ঘরে অপ্রত্যাশিত কিছু দেখলেন।
আপনি ভাববেন না, "আরে, আগে তো এটা দেখিনি।"
আপনি ভাববেন, "এটা এখানে এল কীভাবে?
এটাই আমাদের কৌতূহলী স্বভাবের অংশ।"
কীভাবের প্রশ্ন সব সময়েই কার-এর প্রশ্নের দিকে চালিত হয়।
কে এটা আমার ঘরে রাখলো?
কে আমার জানালার কাচ ভাঙল?
এবার অনেক বড়ো গতিশীল এক বলের কথা ভাবি, যেমন আমাদের গ্রহ।
আমাদের এই সবুজ নীল পাথরের গ্রহ ঘন্টায় ৬৭,০০০ মাইলের গতিতে মহাকাশে ঘোরে,
ঘন্টায় ১০০০ মাইলের গতিতে আবর্তিত হয়।
তাহলে প্রশ্নটি হল,
কী অথবা কে এই গতি শুরু করেছিল?
কি এর গতিশীলতাকে বজায় রাখে?
বাইবেলের সূচনায় বলা হয়েছে, "আদিতে"
এটি অত্যন্ত অর্থপূর্ণ।
এই বিবৃতি বোঝায় যে আমাদের মহাবিশ্বের সূচনা হয়েছিল।
কিন্তু তা কি বিজ্ঞানীদের আবিষ্কারের সঙ্গে একমত
আমাদের মহাবিশ্ব কেন অস্তিত্বে এসেছিল সেই বিষয়ে?
১৯ শতকের গোড়ায়, টেলিস্কোপের খ্যাতিসম্পন্ন এডুইন হাবল
ক্রমবর্ধমান মহাবিশ্বের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে মহান অবদান রেখেছিলেন।
হাবলের যুক্তি, মহাবিশ্ব শুধু ক্রমবর্ধমানই নয়,
এটি নির্দিষ্ট অতীতে একটি বিন্দু থেকে উদ্ভূত হয়েছে।
বিজ্ঞানীরা অনুমান করতেন যে মহাবিশ্বের অস্তিত্ব বরাবরই ছিল।
হাবলের মত বিজ্ঞানীরা এখন আমাদের দেখান,
যে মহাবিশ্বের এক প্রারম্ভিক অধ্যায় অথবা সূচনা বিন্দু ছিল।
আমার বক্তব্য হল, মহাবিশ্বের যদি সূচনা থাকে,
তাহলে এই কথা বলাই যায় যে তার সূচনাকারী কেউ ছিল
এবং সেই ক্ষমতাশালী সৃজনশীল শক্তি নিশ্চয়ই মহাবিশ্বেরও ঊর্ধে।
আমার মনে হয় বিজ্ঞান এবং বিশ্বাস উভয়েই
এই ক্ষমতাশালী সৃজনশীল শক্তির সম্ভাবনাকে স্বীকৃতি দেয়।
সেই শক্তি যদি ঈশ্বর হন, তাহলে তা আমাদের অস্তিত্বের কারণের ব্যাখ্যায় তা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে
এবং আমরা কীভাবে এই আলোচনা করার ক্ষেত্রে সক্ষমও।