2 / 3যীশু কি মৃত্যুকে পরাজিত করেছিলেন? (পর্ব ৩) · ৩ অধ্যায়

৩.২ এরপর কী হল?

যীশুর পিছনে পিছনে আসা মহিলারা যখন তাঁকে সমাধিস্থ করা হয়েছিল সেই সমাধিতে পৌঁছান, তখন তা খালি ছিল। এটি খ্রিস্টীয় গল্পের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

আপনার প্রশ্ন

বাইবেলের উদ্ধৃতি

শেয়ার করুন
মথি 28:5-6

সেই দূত সেই মহিলাদের বললেন, “তোমরা ভয় পেয়ো না, কারণ আমি জানি যে, তোমরা ক্রুশে হত যীশুর খোঁজ করছ। তিনি এখানে নেই, কারণ তিনি মৃত্যু থেকে জীবিত হয়েছেন, যেমন তিনি বলেছিলেন, এস, প্রভু যেখানে শুয়েছিলেন, সেই জায়গা দেখ।

ইন্ডিয়ান রিভাইজড ভার্সন (IRV) - বেঙ্গলী

BEN-IRV Creative Commons License Indian Revised Version (IRV) - Bengali (ভারতীয় সংশোধিত সংস্করণ - বাংলা), 2019 by Bridge Connectivity Solutions Pvt. Ltd. is licensed under a Creative Commons Attribution-ShareAlike 4.0 International License. This resource is published originally on VachanOnline, a premier Scripture Engagement digital platform for Indian and South Asian Languages and made available to users via vachanonline.com website and the companion VachanGo mobile app.

আরও পড়ুন...
বিনামূল্যের রিসোর্স

বাইবেল আরও গভীরভাবে বুঝতে চান?

আমাদের বাইবেল অধ্যয়নে যোগ দিন

ট্রান্সক্রিপ্ট

Bengali (Indian) (বাংলা)
যীশুর মৃত্যুর পরে দিনগুলি কেমন ছিল বলে আপনাদের মনে হয়? আমাদের জ্ঞান অনুযায়ী সেই সময় ছিল ইহুদিদের উৎসব নিস্তারপর্ব। রাস্তাঘাট ইহুদি পুরুষ, নারী এবং শিশুতে ভরে থাকার কথা। রোমের সরকার এবং ইহুদি কর্তৃপক্ষ, খুব খুশি কারণ তারা যীশুর থেকে রেহাই পেয়েছে যিরুশালেমে উদ্‌যাপন চললেও, ভগ্নহৃদয় যীশুর শিষ্যদের একটি ছোট দলও ছিল যারা তাদের নেতা, পরামর্শদাতা এবং বন্ধুকে হারিয়েছে। যদিও অনেকেই ১২ জন শিষ্যের কথা বলেন, তাঁর অনুসরণকারীর সংখ্যা অনেক বেশি ছিল এবং এর মধ্যে বহু মহিলা ছিলেন যারা তাঁর সেবাকার্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। যীশুর মহিলা শিষ্যারা তাঁর সমাধিতে যান যেটি এই সমাধিই ছিল বলে অনেকেই মনে করেন, আর তারা এক রবিবার সকালে সেখানে যান সেখানে পৌঁছে তারা এক অপ্রত্যাশিত বিষয় দেখেন। সমাধির মুখে যে বিশাল পাথর চাপা দেওয়া ছিল তা গড়িয়ে গেছে, এবং কবর শূন্য ছিল। কবরে যাওয়া মহিলারা দাবি করেন যে তারা এক স্বর্গদূতের দেখা পান যিনি বলেছিলেন যে যীশু মৃত্যুর থেকে উত্থিত হয়েছেন। যীশুর এক শিষ্যা মগ্দলীনী মরিয়ম , সেইদিনই যীশুর সঙ্গে দেখা হওয়ার দাবিও করেন। শিষ্যরা শুনেই কবরের দিকে ছুটে যান, আর তারাও দেখেন তা শূন্য। তাদের দাবি অথবা অভিজ্ঞতা যাচাই করার উপায় আমাদের নেই, কিন্তু ফাঁকা কবর নিয়ে তর্ক করতেই পারি। সেটি ফাঁকা থাকার সম্ভাব্য কারণগুলি কী হতে পারে? রোমানরা যীশুর ভবিষ্যদ্বাণী শুনেছিল যে তিনদিন পরে তিনি মৃত্যুর থেকে উত্থিত হবেন, এবং যদিও তারা তাঁকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়নি, তারা কিছু ব্যবস্থা নিয়েছিল। এটি আটকাতে তারা কবরের মুখ বিশাল এক পাথর দিয়ে ঢেকে, তার মুখ আটকে দিয়েছিল, আর পাহারা দেওয়ার জন্য রক্ষী রেখেছিল। তাই কেউ যদি রক্ষীদের অগ্রাহ্য করে পাথর সরাতে যেত, কে তা করতে চাইত? রোমানদের বিষয়ে কী বলা যায়? হয়ত এটা ভিতরের কাজ। তারাই অতিরিক্ত রক্ষী মোতায়েন করে, তাহলে নিয়মমাফিকভাবে তারাই শবের দায়িত্বে ছিল, আর তারা তাই নিয়ে যা কিছুই করতে পারত। কিন্তু যীশুর ‘দেহ’ নিয়ে অনধিকার প্রভাবের পিছনে তাদের মূল লক্ষ্য কী হতে পারে? যীশুকে হত্যা করে তারা ইতিমধ্যেই তাদের ক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে, তারা কেবল তাঁকে মৃত এবং সমাধিস্থ দেখতে চেয়েছে। হয়ত ইহুদি কর্তৃপক্ষ নিয়েছিল। সেটা সম্ভব, কিন্তু কেন তা বোঝা কঠিন। কবরে রোমান রক্ষী থাকায় তারা অত্যন্ত খুশি ছিল। সেইসঙ্গে তাদের পরিকল্পনা ছিল যীশু সাধারণ মানুষ, ঈশ্বরের পুত্র নয়, এটা প্রমাণ করা। যীশুর দেহ মৃত এবং ঠাণ্ডা অবস্থায় পড়ে থাকাই ছিল তার একমাত্র উপায় যাতে যীশুর ক্রুশবিদ্ধ হওয়ায় তাদের যুক্ত থাকার প্রমাণ মেলে। আমার কাছে এর মূল কথা স্পষ্ট। দুই ক্ষমতাশালী গোষ্ঠীর যেকোনো এক পক্ষ যদি কোনো অজ্ঞাত কারণে যীশুর দেহ নিত, তারা দ্রুত তা জনসমক্ষে আনত যে মুহূর্তে যীশুর শিষ্যরা দাবি করত যে তিনি মৃত্যুর থেকে উত্থিত হয়েছেন। আর খ্রীষ্টধর্ম কখনোই প্রতিষ্ঠিত হত না। অথবা এই কথা জিজ্ঞাসা করা যেত যে পুনরুত্থানের গল্প কি বানানো? হয়ত তা শিষ্যদের পরবর্তী কল্পনা। যেমন আমরা যদি সুসমাচার রচয়িতা মথিকে পেতাম এবং তাকে এইভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করতাম? প্রকৃত সত্য কী? এই গল্প সত্যি হয় কীভাবে? অবশ্যই আমরা জানতে পারব না, কিন্তু মথি যদি একদল মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চাইতেন এবং কল্পকাহিনী কে ইতিহাস বলতে চাইতেন, আমার মনে হয় তিনি দুটি বড়ো ভুল করেছেন। প্রথমত, তিনি বলেছেন, সেই সময়কার বিশিষ্ট ব্যক্তি পন্তীয় পীলাত যীশুকে সমাধিস্থ করার অনুমতি দেন এবং রক্ষীদের তার উপর নজর রাখার নির্দেশ দেন। পুনরুত্থানের বিবরণ যদি শুধু কল্পকাহিনী হত, তাহলে তা অবিশ্বাস্যরকমের সহজ হত যেকোনো মানুষের পক্ষে তার বিরোধিতা করা। কিন্তু কেউ কখনো মথির সুসমাচারের বিবরণের বিরোধিতা করেনি। তিনি এই কথাও বলেছিলেন যে এই ঘটনা ঘটেছিল আরিমাথিয়ার যোষেফের সমাধিতে। যোষেফ অথবা তার পরিবারের জীবিত যে কেউ গোড়াতেই এই গল্পকে বাতিল করত যদি তা সত্যিই বানানো হত। দ্বিতীয়ত, দুর্ভাগ্যজনকভাবে প্রথম শতকের পৃথিবী ছিল একেবারে ভিন্ন। সমানাধিকারের কোনো ধারণাই ছিল না। এক মহিলা প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য ছিল না যদি না তার পিছনে কোনো পুরুষের সমর্থন থাকত। কিন্তু তা সত্ত্বেও এটি বিবৃত হয়েছিল যে মহিলারাই প্রথম পুনরুত্থিত যীশুকে দেখেছিলেন। আপনি যদি গল্প বানান, তাহলে আইনগতভাবে অবিশ্বাসযোগ্য সাক্ষ্য মনোনীত করবেন না আপনার প্রাথমিক সূত্র হিসাবে যদি না তা সত্যই ঘটে থাকে।
JesusFilm