সম্পূর্ণ বিশ্বে কিছু কিছু অসাধারণ শহর আছে,
যেমন এখানে নিউ ইয়র্কে আকাশ্চুম্বী ভবন এবং মূর্তিসমূহ,
আর কিছু শহর আরো বিচিত্র ও মনোরম যেমন আমার নিজের শহর ডাবলিন সিটি।
কিন্তু শহর নির্বিশেষে সর্বত্রই চিত্র এবং চিহ্ন আছে।
কিছু সত্যিই জটিল হতে পারে,
রাস্তার এলোমেলো সঙ্কেত যা আপনারা বুঝতে পারবেন না।
কিন্তু অন্য কিছু সরল জিনিস থাকে যেমন আপনার প্রিয় বিজ্ঞাপন অথবা বিখ্যাত প্রতীক।
প্রত্যেকটিই আমাদের কিছু জানাতে চাইছে।
কিছু চিহ্ন আমরা দেখতে অপছন্দ করি,
যেমন ফোনের দিকে তাকিয়ে ভয়ানক ১% অবশিষ্ট ব্যাটারি দেখা।
কিন্তু অন্যান্য প্রতীক আনন্দময়,
যেমন ঠিক বেরোবার মুহূর্তে আপনারা প্রস্তুত
আর হঠাৎ মল বা মূত্রত্যাগের ইচ্ছা হয়।
আপনি চারপাশে আশার প্রতীক খোঁজেন, আর যখন তা দেখতে পান,
আপনি ত্যাগ করার জন্য সেদিকে অদ্ভুতভাবে ছোটেন।
আপনি বড়ো শহরে থাকুন অথবা ছোট শহরে,
সব চিত্র এবং প্রতীকের মধ্যে আপনারা ক্রুশ চিহ্নটিকে দেখবেন।
তা গির্জায়, উঁচু ভবনে অথবা মানুষের গলায় থাকতে পারে।
এই খ্রীষ্টান প্রতীকটি একটি অর্থ বহন করে৷
এটি এমন গল্পের কথা বলে যা আজও বলা হয়৷
যীশুর মৃত্যু হয়, এবং যদিও অনেকের কাছে তা অস্বাভাবিক,
আজ তা লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
যদিও এই প্রতীক যীশুর মৃত্যুর কথা বলে, কিন্তু গল্প এখানে শেষ হয় না।
যীশুর মৃত্যুর তিন দিন পরে, গল্প ছড়াতে শুরু করে
যে তাঁকে যে সমাধিতে রাখা হয়েছিল তা শূন্য।
তাহলে কী হল? তাঁর শরীর কোথায় গেল?
যে সপ্তাহশেষে যীশুর মৃত্যু হয় তখন কী হয়েছিল তার ব্যাখ্যায় অনেক সম্ভাবনা আছে।
এর মধ্যে চারটি দেখা যাক।
এক, যীশু ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার থেকে বেঁচে যান
এবং তাঁর পুনরুত্থান হয়েছে বলে মানুষকে বোকা বানান।
দুই, রোমান অথবা ধর্মীয় কর্তারা দেহ নিয়ে নেয়।
তিন, শিষ্যরা তা চুরি করে লুকিয়ে রাখে।
এবং চার, যীশুর প্রকৃতপক্ষেই পুনরুত্থান হয়েছিলেন।
ক্রুশবিদ্ধ করা থেকে শুরু করা যাক।
যীশু কি তার থেকে বাঁচতে পারতেন?
আজ আমরা যীশুর তাতপর্য বুঝলেও,
রোম সাম্রাজ্যের কাছে তিনি বিশেষ ছিলেন না।
তাদের পরিচিত পৃথিবীতে যীশু ছিলেন কেবল আর একজন বিদ্রোহী,
আর একজন বিপ্লবী যার মোকাবিলা করতে হবে।
তিনি প্রথমও ছিলেন না আর শেষও ছিলেন না।
রোমানরা সব থেকে ভয়ঙ্কর
এবং যন্ত্রণাদায়ক অত্যাচার করে অপরাধ ও বিদ্রোহ দমন করত।
একবার গ্রেপ্তার হলে অপরাধীকে নগ্ন করে
অপমান, প্রহার এবং চাবুক মারা হত।
এত বীভৎস এবং চরম শাস্তি্তে
অনেক বন্দিই প্রাণ হারাত।
কেবল তাদের জীবন শেষ করাই নয়।
তাদের তা করতে হত চারপাশের বন্দিদের মনে ভয় জাগাতে,
বিশেষ করে যারা তাদের অনুসরণ করত।
শত্রুদের মৃত্যু হতে হত ধীরে এবং যন্ত্রণাদায়কভাবে।
অভ্যাস তাদের ত্রুটিহীন করেছিল, আর যতদিনে তারা যীশুকে ধরে,
তারা তাদের শ্রেষ্ঠ হাতিয়ার সৃষ্টি করে নিয়েছিল, যা হল ক্রুশবিদ্ধ করা।
যারা চাবুকের হাত থেকে বেঁচে যেত তাদের ক্রুশ বহন করতে হত,
আর তাদের হাত ও পায়ে পেরেক মারা হত।
এটি সাধারণত প্রকাশ্য স্থানে করা হত,
যেমন চৌরাস্তা, যেখানে তারা প্রতীক হিসাবে ঝুলে থাকবে।
এক প্রতীক যা সাধারণ মানুষকে জানাবে যে অভিযুক্ত পরাজিত হয়েছে,
এবং রোম সর্বদাই জয়ী।
ক্ষতের ফলে আক্রান্তদের মৃত্যু হত না।
ক্রমে তাদের মৃত্যু হত হৃদযন্ত্র বিকল হয়ে,
যখন শরীরের এই অস্বাভাবিক ভঙ্গিতে তা রক্ত সংবহন করতে সংগ্রাম করত
পায়ে যা কাঠের সঙ্গে পেরেক দিয়ে আটকানো,
কিন্তু শরীরকে সোজা দাঁড় করানো অসম্ভব ছিল।
তার সুসমাচারে, যোহন যীশুর অন্তিম মুহূর্তগুলি বর্ণনা করেছেন
এবং লিখেছেন যে যীশু শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন,
তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করতে রোমের এক সেনানায়ক তার পেটের পাশে ছুরি মারে,
আর তখন, রক্ত ও জল বেরিয়ে আসে।
এটা গুরুত্বহীন এক বিবরণ মনে হতে পারে, কিন্তু আসলে তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যোহন তখন যা জানতেন না
তা আমরা এখন জানি স্যামুয়েল হাউটনের মত আইরিশ বিজ্ঞানীদের কারণে।
১৯ শতকে, তার গবেষণা প্রমাণ করে
যে, যখন মৃত্যুর পরে শরীরের বাম দিকে ব্লেড দিয়ে ছিদ্র করা হয়,
জল, তারপর রক্তপ্রবাহ প্রমাণ করে
এবং নিশ্চিত করে যে হৃদযন্ত্রের চারপাশে তরল জমেছিল,
এবং হৃদযন্ত্র থেমে গিয়েছিল।
যোহন বিজ্ঞান জানতেন না, তিনি শুধু যা দেখেছিলেন তাই জানতেন,
এবং তিনি যা দেখেছিলেন তা হল যীশুর মৃত্যু হয়েছিল।
যীশুর ক্রুশে মৃত্যু হয়নি এই ধারণা
আমাদের এই বিশ্বাস দেয় যে একজন রোমানদের চাবুক থেকে বেঁচে যেতে পারে
পৃথিবীর সব থেকে পেশাদার শক্তির হাতে ক্রুশবিদ্ধ হওয়া,
হৃদযন্ত্রের মধ্য দিয়ে বেঁধানো বর্শা, বিশাল পাথর ঠেলে,
রক্ষীদের থেকে পালিয়ে,
তাঁর শিষ্যদের কাছে সুস্থ দেহে আবির্ভুত হন।
এই ব্যাখ্যা্য যীশুকে সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতারক হতে হবে,
যিনি বৃহত্তম মিথ্যা খ্রীষ্টধর্মের স্রষ্টা।