আমাদের এই পর্যন্ত দেখা ঐতিহাসিক তথ্য থেকে,
আমার মনে হয় আমরা তিনটি বিষয়ে একমত হতে পারি।
এক, ক্রুশবিদ্ধ হয়ে যীশুর নিশ্চিতভাবে মৃত্যু হয়েছিল।
তাঁকে যিরুশালেমে এক ধনী ব্যক্তির সমাধিস্থলে সমাহিত করা হয়।
রোমান রক্ষীদের প্রহরায় থাকা সেই সমাধি শূন্য হয়ে যায়।
তাহলে কী হয়েছিল?
আমার মনে হয়, এবং আমি যা বলতে চাই,
তা হল আমরা অবশ্যই
ইহুদি এবং রোমান কর্তৃপক্ষকে সন্দেহের তালিকা থেকে বাদ দিতে পারি।
তাহলে আমাদের কাছে একমাত্র উপযুক্ত সম্ভাবনা হল শিষ্যেরা।
আমার মনে হয় আমাদের শিষ্যদের উদ্দেশ্যকে দুই ভাগে দেখা উচিত।
প্রথম হল সুযোগ এবং দ্বিতীয় হল উদ্দেশ্য।
তাহলে সুযোগ।
আমরা যখন সুসমাচার পাঠ করি,
শিষ্যরা এবং তাদের চরিত্র সম্পর্কে আপনারা যে অন্তর্দৃষ্টি লাভ করেন
তার থেকে এই বিশ্বাস গড়ে ওঠা খুব স্বাভাবিক নয়
যে তারা রাতারাতি অপরাধ বিশেষজ্ঞ হয়ে উঠবে।
যীশুর দেহ চুরি করা গুরুতর ডাকাতির পর্যায়ে পড়ত।
শুধু তাই নয়, এই ব্যক্তিরা মতসজীবী,
তারা কৃষক, তারা হিসাবরক্ষক,
এবং তারা শান্তির প্রচার করত,
আদেশ পালন করত, অর্থাৎ চুরি করত না, এক প্রকারের শিক্ষক ছিল।
এই কাজ করার দক্ষতা থাকলেও
প্রমাণ অনুযায়ী তাদের হয়ত এই কাজ করার সাহস ছিল না।
যীশুর মৃত্যুর পর তাঁর শিষ্যদের বিবৃত করা হয় ভীত
এবং দুঃখীত অনুসরণকারী যারা আত্মগোপন করেছিল।
যীশু গ্রেপ্তার হন কারণ এদের মধ্যে একজন তাঁর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল,
এবং গ্রেপ্তারের পর শিষ্যরা ছড়িয়ে যায়।
প্রকৃতপক্ষে যীশুকে তারা পরিত্যাগ করেছিল
যারা বলেছিল তাঁকে কখনো পরিত্যাগ করার আগে তারা মৃত্যুবরণ করবে।
যখন আপনারা এই ব্যক্তিদের গল্প পড়বেন,
তখন এই প্রস্তাব পাগলের মত মনে হবে যে, যারা ভয়ে
যীশুর জীবদ্দশায় তাঁর উদ্ধারের ব্যবস্থা করতে পারে না
তারা তাঁর শব নিতে জীবনের ঝুঁকি নেবে।
উদ্দেশ্য সম্পর্কে কী বলা যায়?
প্রথমে আমি শিষ্যদের যীশুর দেহ চুরি করার বিষয়ে বুঝতে পারি
এবং তারপর এই দাবি করা যে তিনি মৃত্যু থেকে উত্থিত হয়েছেন।
সত্যি কথা হল, কেউই ভুল প্রমাণিত হতে চায় না,
আর এগিয়ে যেতে মানুষ মিথ্যা বলছে ইতিহাসে এই নিদর্শন প্রচুর।
তবে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষেত্রে এই কথা প্রযোজ্য নয়।
পুনরুত্থানের ফলে যদি শিষ্যরা
ক্ষমতাবান এবং প্রভাবশালী হতে পারত,
তবে আমরা সব সময়েই ভাবতাম তারা যদি সত্যি কথা বলত।
তাদের কোনোই লাভ ছিল না গল্প বানিয়ে
মিথ্যার ভিত্তিতে এক নতুন ধর্মীয় আন্দোলন গড়ে তুলতে,
কারণ এর ফলে,
তাদের যথেষ্ট বিদ্রূপ এবং অত্যাচার সহ্য করতে হত,
এবং শেষ পর্যন্ত এক নিষ্ঠুর মৃত্যু।
কিন্তু কীসের জন্য?
এই শিষ্যদের সময়ের দীর্ঘকাল পরেও খ্রীষ্টানদের হত্যা এবং কারারুদ্ধ করা হয়েছিল,
প্রায় ২০০ বছর ধরে, সম্রাট কনস্ট্যানটিনের শাসনের আগে পর্যন্ত।
খ্রীষ্টান ঐতিহ্য থেকে আমরা যা বলতে পারি,
তা হল, একাধিক শিষ্যকে তাদের বিশ্বাসের জন্য ভয়ানকভাবে হত্যা করা হয়েছিল
যার তারা অসাধারণ সাহসের সঙ্গে সম্মুখীন হয়েছিলেন।
কোনো কিছুর জন্য জীবন উৎসর্গ করতে ক্ষমতার প্রয়োজন।
আপনারা কোনো বন্ধুর অথবা পরিবারের সদস্যের জন্য প্রাণ দিতে পারেন।
যে নীতিতে আপনারা প্রকৃত বিশ্বাস করেন তার জন্যও প্রাণ দিতে পারেন।
কিন্তু একটি মিথ্যার জন্য কি আপনারা প্রাণ দিতে ইচ্ছুক হবেন?
যিরুশালেমে যখন খ্রীষ্টান আন্দোলনের সূচনা হয়,
তাকে বন্ধ করতে ইহুদি কর্তৃপক্ষ সব রকম চেষ্টা করে।
কিন্তু তারা দেখতে পায়, তারা যত জোর করে, গির্জার বৃদ্ধি তত বেশি হয়।
এক প্রবীন এবং বিজ্ঞ রাব্বি তার সহকর্মীদের সব আন্দোলনের কথা স্মরণ করায়
যা তারা জীবনে আসতে এবং যেতে দেখেছে, এবং শেষে বলে,
"এই আন্দোলন যদি মানুষের নকশা
এবং সৃষ্টি হয়, " আমাদের তার প্রতিবাদ করার প্রয়োজন নেই।
"এটি নিজেই ভেঙে পড়বে।
"কিন্তু তা যদি ঈশ্বর প্রেরিত হয়,
"তাহলে আমরা তার বিরুদ্ধে যতই লড়াই করি না কেন, "আমাদের কেউ তা আটকাতে পারবে না।"
মানুষ এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার চেষ্টা করেছে।
পুরানো এবং নতুন নেতারা,
খ্রীষ্টধর্মকে পৃথিবীর থেকে মুছে ফেলতে চেয়েছে।
আর আজ, ২০০০ বছর পরেও আমরা তাই নিয়ে আলোচনা করছি।
সম্ভবত এটিই আমাদের কাছে পুনরুত্থানের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রমাণ।
পুনরুত্থান হল যুগ পরিবর্তনকারী।
সাধু পৌলের উক্তিই শ্রেষ্ঠ, যে খ্রীষ্ট যদি মৃত্যুর থেকে উত্থিত না হতেন,
তাহলে খ্রীষ্টধর্ম অনর্থক, এবং আমরা সকলের থেকে বেশি করুণার পাত্র।
কিন্তু খ্রীষ্ট যদি মৃত্যুর থেকে উত্থিত হন, তাহলে আমার বিশ্বাস তা সব কিছু পরিবর্তিত করে।