খ্রিস্টানরা কি ভণ্ড? (পর্ব ৫)1 / 3

৫.১ খাঁটি বিশ্বাস কী?

একজন খাঁটি খ্রিস্টান হওয়ার অর্থ হল সদয় মনোভাব থাকা কিন্তু প্রকৃত আবেগ সম্পর্কে সৎ থাকতে ইচ্ছুক থাকা।

আপনার প্রশ্ন

বাইবেলের উদ্ধৃতি

শেয়ার করুন
মার্ক 3:5

কিন্তু তারা চুপ করে থাকলো। তখন তিনি তাদের হৃদয়ের কঠিনতার জন্য খুব দুঃখ পেয়ে চারদিকে সবার দিকে তাকিয়ে রাগের সঙ্গে তাদের দিকে তাকিয়ে সেই লোকটিকে বললেন, “তোমার হাত বাড়িয়ে দাও,” সে তার হাত বাড়িয়ে দিল এবং যীশু তার হাত আগের মতন ভালো করে দিল।

ইন্ডিয়ান রিভাইজড ভার্সন (IRV) - বেঙ্গলী

BEN-IRV Creative Commons License Indian Revised Version (IRV) - Bengali (ভারতীয় সংশোধিত সংস্করণ - বাংলা), 2019 by Bridge Connectivity Solutions Pvt. Ltd. is licensed under a Creative Commons Attribution-ShareAlike 4.0 International License. This resource is published originally on VachanOnline, a premier Scripture Engagement digital platform for Indian and South Asian Languages and made available to users via vachanonline.com website and the companion VachanGo mobile app.

আরও পড়ুন...
বিনামূল্যের রিসোর্স

বাইবেল আরও গভীরভাবে বুঝতে চান?

আমাদের বাইবেল অধ্যয়নে যোগ দিন

ট্রান্সক্রিপ্ট

Bengali (Indian) (বাংলা)
মাঝে মাঝে বিশ্বাস নিয়ে আলোচনা করা আমার কাছে কঠিন। এর অন্যতম কারণ হল এত বেশি নেতিবাচক ছাপ যুক্ত হয়ে রয়েছে বিশ্বাসী মানুষদের সম্পর্কে। এটা খুবই যন্ত্রণাদায়ক যে কিছু ছাপ অর্থ সংক্রান্ত, যার কারণ কিছু চরমপন্থী এবং ধর্মান্ধ ব্যক্তি যারা অতীতে এবং বর্তমানেও ভয়াবহ কাজ করে যা তারা ঈশ্বরের নামে করে বলে দাবি করে। খ্রীষ্টধর্মের নির্দিষ্ট কিছু ছাপ আছে, যার মধ্যে কয়েকটির মধ্যে আমি নিজেই পড়তে চাই না, যেমন করুণাময় পুরুষ। করুণাময় বা সদাশয় হওয়ার মধ্যে ভুল কিছু নেই। প্রকৃতপক্ষে, দয়া করে সদাশয় হোন। কিন্তু আমি যদি একজন সদাশয় ধর্মীয় ব্যক্তি হই যে কোনটি সঠিক সেই বিষয়ে কোনো প্রকৃত অনুভূতি অথবা আবেগ প্রকাশ করে না, তাহলে তা ভালো নয়। অথবা আমি যদি শ্রীমান সদাশয় হয়ে কারো সঙ্গে খারাপ ব্যবহার অথবা তাকে সহজেই পরাজিত করে মেরুদণ্ডহীনতার পরিচয় দিই, তাহলে সেটাও কোনো মহান কাজ নয়। খ্রীষ্টান ধর্মবিশ্বাসের সম্পর্কে এই সাধারণ ভুল ধারণার সেরা বিবরণ দিয়েছেন নেড ফ্ল্যান্ডার্স তার দীর্ঘমেয়াদি কার্টুন দ্য সিম্পসনস-এ। তিনি চরম, অত্যন্ত শ্রীমান ধর্মীয় সদাশয় ব্যক্তি, অন্ততঃ বহিরঙ্গে। ভিতরে ভিতরে তিনি হোমারের বিরুদ্ধে তার ক্রোধ এবং ক্ষোভ জমা করছেন এবং সর্বদাই প্রায় ভেঙে পড়ার অবস্থায় রয়েছেন। এটা কোনো সুস্থ জীবন নয়। যীশু যেভাবে বেঁচেছিলেন, সেভাবে বিশ্বাস হল এমন কিছু যা বিশুদ্ধ, এমন কিছু যা যুদ্ধার্থে আহ্বানের যোগ্য, এমন কিছু যা দুঃসাহসিক। এমন এক জীবন যেখানে আপনাদের ইচ্ছা এবং আবেগ কোনো লুকিয়ে রাখার বিষয় নয়, বরং এক শক্তি যার সাহায্যে পরিবর্তন আনা যায়। উদাহরণস্বরূপ, আমার বিশ্বাস আমাকে আমার ক্রোধের আবেগ প্রকাশে সাহায্য করে। আমরা সাধারণভাবে ক্রোধকে স্বার্থপরতা ভাবি এবং ধ্বংসাত্মক আবেগ এবং প্রায়শই তা হয়ও। কিন্তু ক্রোধ স্বয়ং ভালো অথবা খারাপ নয়। গুরুত্বপূর্ণ হল আপনাকে কী ক্রুদ্ধ করে এবং সেই ক্রোধ নিয়ে আপনি কী করেন। আপনি কি মাথা গরম করে রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে যান যখন কেউ আপনার চিকেন রোলে অতিরিক্ত চীজ দিয়ে দেয়? সেটা অস্বাস্থ্যকর ক্রোধ। আপনার তা বিবেচনা করা উচিত। কিন্তু এমন বিষয়ও আছে যার সম্পর্কে আমাদের ক্রুদ্ধ হওয়া উচিত, যেমন অসাম্য, অবিচার, দারিদ্র, অত্যাচার। যীশুর জীবন সম্পর্কে পড়লে দেখি, তিনি সরবে এসবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন। এবং তিনি নম্র হয়ে থাকেননি। অবিচার তাঁকে ক্রুদ্ধ করেছে। কিন্তু তাঁর ক্রোধের প্রকাশ সর্বদাই পরিবর্তন এনেছে। মার্ক-এর সুসমাচারের গোড়ার দিকে, যীশু ধর্মীয় নেতাদের প্রতি ক্রুদ্ধ হন কারণ তাদের বিশ্বাসের প্রক্রিয়া ছিল প্রাচীনপন্থী। তাদের স্থির বিশ্বাস ছিল বিশ্রামবারে কোনো কাজ করা যাবে না, সেটি বিশ্রামের দিন, এমনকী কাউকে সুস্থ করার ক্ষেত্রেও। দুঃস্থদের দুর্দশায় তারা খুশিই হত অথচ তারা ভালো করেই জানত যে যীশুর সুস্থ করার ক্ষমতা আছে। তাই এক বিশ্রামবারে যীশু যখন পঙ্গু হাতের এক ব্যক্তিকে দেখে তাকে সুস্থ করতে যান, ধর্মীয় নেতারা তাই নিয়ে নিজেদের মধ্যে সমালোচনা করতে থাকে এবং তাঁর নিন্দা করার এক সুযোগ পায়। এতে যীশু ক্রুদ্ধ হন, এবং তা যথার্থ কারণে, কারণ তাদের বিবেচনায় আইন মানা ভালোবাসার থেকে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং অসহায়দের সাহায্য করাও। কিন্তু তাদের প্রতিরোধ যীশুকে থামাতে পারেনি। তিনি সেই ব্যক্তিকে সুস্থ করতে যান। ক্রোধ এবং ভালোবাসার এই হল রুচিকর বিষয়। যীশুর ক্রোধ প্রকাশিত হয় পীড়িত মানুষের প্রতি ভালোবাসায়। আর যীশুর প্রেম প্রকাশিত হয় ফরীশীদের প্রতি তাঁর ক্রোধে। তাদের প্রতি ক্রুদ্ধ হয়ে এবং তাদের অমান্য করে, তিনি তাদের সামনে আয়না ধরেছেন এবং বলেছেন, "দেখো তোমরা কী হয়েছো। এর থেকে অনেক বেশি কিছু করার জন্য তোমরা সৃষ্ট।" এবং যীশু কেবল এই একটি ক্ষেত্রেই ক্রুদ্ধ হননি। যখন তিনি দেখেন মানুষ ঈশ্বরের উপাসনা গৃহ মন্দিরকে ব্যবহার করছে, বেচাকেনার কেন্দ্র হিসাবে, উপাসনাস্থল হিসাবে নয়, তিনি ক্রুদ্ধ হন। তিনি তাদের ব্যবহৃত টেবিল উলটে দেন এবং সবাইকে বের করে দেন। এর অর্থ এই নয় যে যীশুর ক্রোধে নিয়ন্ত্রণ ছিল না অথবা তিনি ব্যবসার বিরোধী। এই মুনাফালোভীরা নিয়ন্ত্রণহারা হয়ে যায়, এবং তার মূল্য দেয় দরিদ্র মানুষেরা। তারা বাধা হয়ে উঠত মানুষের ঈশ্বরের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পথে এক অত্যন্ত বিশেষ স্থানে। যীশুর প্রবল অনুভূতি ছিল বাধা সৃষ্টির বিরুদ্ধে সেই মানুষদের উপর যারা ঈশ্বরের সঙ্গে যুক্ত হতে সচেষ্ট, অথবা তাঁর প্রেম প্রকাশের পথে কোনো বাধা এলে যে প্রেম তাদের জন্য যাদের তা আকুলভাবে প্রয়োজন। শ্রীমান সদাশয়কে হয়ত সুন্দর এবং ধর্মপ্রাণ দেখাতে পারে, কিন্তু তার মধ্যে খ্রীষ্টধর্মের মূল নির্যাস নেই। আস্থা যদি সাঁতারের স্থান হয়, তাহলে সে নেহাতই শিক্ষা নবিশ, যে ধারে দাঁড়িয়ে জলে আঙুল ডোবাচ্ছে মাত্র। যীশুকে অনুসরণ করতে হয় সর্বান্তকরণে, আর তা হল গভীর জলে ঝাঁপ দেওয়ার মত।
JesusFilm