শপথ নেবেন না, ঠাট্টা করবেন না,
কিছু বিশেষ ধরনের সঙ্গীত শুনবেন না।
পানশালা, নাইটক্লাব, অন্ধকার গলিতে যাবেন না।
অশোভন পোশাক পরবেন না, রবিবারে বাজার করবেন না।
অতিরিক্ত আমোদ প্রমোদ করবেন না, ঠিক আছে?
এই ধরনের বিভ্রান্তিকর তালিকা থেকে,
আপনারা ভাবতে পারেন যে খ্রীষ্টধর্মে আমরা কী করব না তাই নিয়েই বলা হয়েছে
আমরা কী হতে পারি তাই নিয়ে নয়।
এবং আপনাকে ক্ষমা করাও হতে পারে যদি ভাবেন খ্রীষ্টানরা কেবলই একঘেঁয়ে
অথবা তারা অধিকাংশ সময়ই কাটায় একগুচ্ছ নিয়ম মানার চেষ্টায়।
কিন্তু আপনারা যদি একটি সমগ্র সুসমাচার পাঠ করেন,
আমার মনে হয় না আপনারা বলবেন যে যীশু একঘেঁয়ে ছিলেন
অথবা তিনি এক ধরনের আইন প্রয়োগকারীর কাজ করতেন।
তিনি জীবনের পরিপূর্ণতা বোঝার বিষয়েই অনেক বেশি উৎসুক ছিলেন।
আর তাই যে কোনো খ্রীষ্টান যিনি এটি বুঝতে পারবেন তিনি তা প্রতিফলিত করবেন।
তবে, সত্যি কথা বলতে, আমাদের সমাজ নিয়মকে সত্যিই মূল্য দেয়।
যেমন সড়কের নিয়ম তুলে নিলে যান চলাচল বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে।
স্থানীয় চিড়িয়াখানা থেকে নিয়ম তুলে নিন
আপনারা বাড়ি থেকে বেরোতে ভয় পাবেন।
স্কুল থেকে নিয়ম কানুন তুলে নিন, তাহলে তা হয়ে পড়বে-
মুক্ত অঙ্গন!
-এই পৃথিবীর কিছু নিয়ম সত্যিই অদ্ভুত।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায়, বায়ু সরল করা বেআইনি
প্রকাশ্য স্থানে সন্ধ্যা ছটার পরে, বৃহস্পতিবারে।
জাপানে অতিরিক্ত ওজন থাকা বেআইনি।
সেই দেশই আমাদের সমক্ষে সুমো কুস্তি এনেছে।
অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়ায় একমাত্র একজন নথিভুক্ত ইলেকট্রিশিয়ানই বাল্ব বদলাতে পারে।
এবং এই আয়ারল্যাণ্ডে আপাতভাবে ডাবলিন সিটির এক স্বাধীন নাগরিক
প্রকাশ্য ময়দানে তার গবাদি পশু চরাতে পারে,
আমাদের ইউ টু-এর গায়ক বোনো ২০০০ সালে যার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করেছিলেন।
তবে ধর্মের ক্ষেত্রে,
নিয়ম এবং আচার পালিত হয় আমাদের জীবনে মূল্যবোধ যোগ করার জন্য।
এর আগে আমরা বিশ্রামবার সম্পর্কে কথা বলছিলাম,
সপ্তাহের এই একটি দিনে আমাদের কাজ না করতে বলা হয়।
এই নীতি আমার খুবই ভালো লাগে
কারণ এটি আমার জীবনে কাজ এবং বিশ্রামের মধ্যে সামঞ্জস্য সৃষ্টি করে।
আর তা আমাকে স্মরণ করায় এক অনুভূতির স্তরের কথা
যে আমি যা অর্জন করছি তা আমার সংজ্ঞা নির্ধারণ করে না।
আজ আমাদের সপ্তাহশেষের ছুটির এটিই অন্যতম কারণ।
তাই, অন্তত ধর্মের এই অংশটির প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞ থাকা উচিত।
যখন নিয়মই খ্রীষ্টধর্মের মনোযোগের মূল কেন্দ্র হয়ে ওঠে তখন সমস্যা হল
তার ফলে ভণ্ড বিচারমূলক মানুষ সৃষ্টি হয়,
অথবা নিজের শ্রেষ্ঠত্বের সম্পর্কে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস নিয়ে জর্জরিত মানুষ।
তারা, নিয়ম বহাল রেখে, মনে করে তারা অন্যদের থেকে ভালো।
এবং তাই তারা নিজেদের উন্নত মনে করে এবং অন্যদের নিম্নমানের।
চাঞ্চল্যকর বিষয় হল এটি এক অন্যতম দিক
যার বিরুদ্ধে যীশু দ্রুত প্রতিবাদ জানান।
নিজের যুক্তির স্বপক্ষে তিনি এক গল্প বলেন যা ছিল তাঁর অত্যন্ত প্রিয়।
এই গল্পে, এক কর সংগ্রাহক
এবং এক ধর্মীয় নেতা পাশাপাশি
এক মন্দিরে প্রার্থনা করছিলেন, এখনকার মত নয়
ধর্মীয় নেতা তাঁর প্রার্থনায় বলেন,
"হে ঈশ্বর, আপনাকে ধন্য বাদ যে আমি অন্যদের মত নই,
ডাকাত, জালিয়াত, ব্যাভিচারী, অথবা ঈশ্বর না করেন, এই কর সংগ্রাহকের মত।
আমি সপ্তাহে দুবার উপবাস পালন করি এবং আমার সব আয়ের দশমাংশ দিই।"
কর সংগ্রাহক প্রার্থনা করেন,
"ঈশ্বর, করুণা করুন, আমার মত পাপীকে ক্ষমা করুন।"
যীশুর প্রতিক্রিয়া সমগ্র বিষয়টিকেই পরিস্থিতি অনুযায়ী বিচার করে।
তিনি কর সংগ্রাহকের হৃদয়গ্রাহী প্রার্থনাকে অনেক উচ্চাসনে বসান,
যে তার ভুল বুঝতে পেরেছে এবং ঈশ্বরের কাছে ক্ষমা ভিক্ষা করেছে।
কিন্তু যীশু কঠোরভাবে ধর্মীয় নেতাকে সতর্ক করে বলেন,
"তুমি যদি নাক আকাশে রেখে চলো,
তাহলে শেষপর্যন্ত মুখ থুবড়ে পড়বে।"
এটা ভুল নয় যে সে নিয়ম পালন করছে, কিন্তু সে শুধুই তাই করছে।
এবং এটি করার জন্য সে নিজেকে মহান মনে করছে।
সে গর্বিত এবং অন্যদের প্রতি ঘৃণার ভাব পোষণ করছে।
সে মনে করছে ঈশ্বর তার প্রতি ধন্য অথবা তার স্থান সকলের উপরে।
কিন্তু সে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ আদেশ ভুলে যাচ্ছে,
তা হল প্রভুকে নিজের ঈশ্বরকে সমস্ত হৃদয় দিয়ে প্রেম করা
এবং নিজের প্রতিবেশীকে নিজের মত ভালোবাসা।
খ্রীষ্টধর্ম সব সময়েই ঈশ্বর এবং তাঁর সৃষ্টির মধ্যে সম্পর্কের কথা বলে।
আমার কাছে যা চাঞ্চল্যকর
তা হল, এই ধর্মীয় নেতা নিয়ম রক্ষার্থে যে প্রয়াস দেয়,
একই সঙ্গে, সে তাই নষ্ট করে যা তার কাছে সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত,
ঈশ্বরের সঙ্গে তার সম্পর্ক।
একটি বিষয়ে আমরা খ্রীষ্টানরা শ্রেষ্ঠ দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারি, তা হল নম্রতা।
আমরা হলাম বেমানান এবং গোলমালের এক পরিবার,
যারা নিজেদের ত্রুটি বুঝতে পারি, কিন্তু ঈশ্বরের ক্ষমা যে স্বাধীনতা নিয়ে আসে তাও জানি।
তাই আমার কাছে নিয়ম অথবা নীতি অনুসরণ করা
যীশুর মত জীবন যাপনের প্রচেষ্টার একমাত্র সূত্র।
আমরা আমাদের সময় এবং অর্থ কীভাবে ব্যয় করি,
পরিবারের সদস্য অথবা বন্ধু,
প্রেমিক, প্রেমিকা হিসাবে আমরা কেমন, তার সবই তৈরি হয় যীশুর জীবনের সাহায্যে।
তিনি আমার জন্য তাঁর জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাই আমি
তাঁর মত জীবন যাপন করতে এত উৎসাহী।