পর্ব
৫.৩ খ্রিস্টানরা কি যোগাযোগের বাইরে?
৫ মিনিটFHD
3 / 3ক্লিপ 3 / 3খ্রিস্টানরা কি ভণ্ড? (পর্ব ৫) · ৩ অধ্যায়
৫.৩ খ্রিস্টানরা কি যোগাযোগের বাইরে?
ভয়ের জীবনযাপন আপনাকে অন্যদের সাথে প্রকৃত সম্পর্কে প্রবেশ করা থেকে বিরত রাখতে পারে।
প্রশ্নসম্পর্কিত প্রশ্ন
আপনার প্রশ্নবাইবেলের উদ্ধৃতি
শেয়ার করুন1 যোহন 4:18
ভালবাসায় ভয় নেই, বরং পরিপূর্ণ ভালবাসা ভয়কে বের করে দেয়, কারণ ভয়ের সঙ্গে শাস্তির যোগ আছে এবং যে ভয় করে সে ভালবাসায় পরিপূর্ণ হয়নি।
ইন্ডিয়ান রিভাইজড ভার্সন (IRV) - বেঙ্গলী
BEN-IRV Creative Commons License Indian Revised Version (IRV) - Bengali (ভারতীয় সংশোধিত সংস্করণ - বাংলা), 2019 by Bridge Connectivity Solutions Pvt. Ltd. is licensed under a Creative Commons Attribution-ShareAlike 4.0 International License. This resource is published originally on VachanOnline, a premier Scripture Engagement digital platform for Indian and South Asian Languages and made available to users via vachanonline.com website and the companion VachanGo mobile app.
আরও পড়ুন...ট্রান্সক্রিপ্ট
Bengali (Indian) (বাংলা)
ভীতির বাধা সৃষ্টি করার এক জঘন্য অভ্যাস আছে।
এটি আপনাদের স্বপ্ন পূরণের থেকে বিরত করবে।
আপনাকে নিশ্চিত করবে যে আপনি যথেষ্ট কুশলী নন।
এটি আপনাকে সঠিক কাজ করতেও বাধা দেবে,
সেই কারণেই ভীতি ধার্মিক জীবন যাপনের সঙ্গে বিশেষ খাপ খায় না।
সি এস লুইস চতুরভাবে বলেছিলেন,
যে খ্রীষ্টানরা যখন পরকাল নিয়ে এতই নিবদ্ধ হয়ে যায়,
তারা ইহকালের কোনো কাজে লাগে না।
বিষয়টি এমন যেন কিছু মানুষ যীশুর আদেশের ভুল ব্যাখ্যা করে
এই পৃথিবীতে থাকা, কিন্তু পৃথিবীর হয়ে না বাঁচা, এই বিষয়ে।
তারা নিজেদের নিশ্চিত করে যে খ্রীষ্টান জীবন হল নিরাপদ জীবন,
ঠিক যেন এক সুরক্ষাদায়ী বুদবুদের মধ্যে থাকা,
এবং চারপাশের পৃথিবীর মধ্যে থাকা
ভয়ের বিষয়
এবং যার থেকে তাদের নিজেদের রক্ষা করা প্রয়োজন।
এই ধরনের বিচারবুদ্ধির সমস্যা হল
তা জীবনকে এবং মানুষকে দূরে রাখে,
এবং আমাদের পার্থক্য করার ক্ষমতা হরণ করে নেয়।
এটি একটি ছাপ তৈরি করে যে খ্রীষ্টানরা ভয়ে জীবন যাপন করে।
যীশু যদি কোনো সময়ে ভয়ের কাছে আত্মসমর্পণ করতেন,
তিনি কখনোই সেই মানুষদের সম্মুখীন হতেন না যাদের তাঁকে সব থেকে বেশি প্রয়োজন ছিল,
অথবা তিনি কন্ঠহীনদের সমর্থন করতেন না,
ধর্মীয় নেতাদের বিরুদ্ধে,
তিনি কখনোই যিরুশালেম যেতেন না
মৃত্যুর দিকে অগ্রসর হচ্ছেন এই কথা জানা সত্ত্বেও।
যীশুর এক শিষ্য যোহন, এক শক্তিশালী বিবৃতি দিয়েছিলেন
প্রথমদিকের গির্জার উদ্দেশে তার একটি চিঠিতে।
তিনি বলেছিলেন, "প্রেমে কোনো ভয় নেই, কিন্তু প্রকৃত প্রেম ভয় দূর করে।"
আমাকে ভুল বুঝবেন না।
আমি বলছি না যে খ্রীষ্টান হলে আপনারা ভয়মুক্ত হবেন,
কিন্তু আমরা যত আমাদের প্রতি ঈশ্বরের প্রেম বুঝতে এবং বিশ্বাস করতে শুরু করব,
আমাদের উপর ভয়ের প্রভাব তত কম হবে।
আমরা যত বেশি জানব যে আমাদের প্রেম করা হচ্ছে, সঠিক কাজ করতে আমরা তত কম ভয় পাব,
অথবা ব্যর্থ হতে, এমনকী প্রত্যাখ্যাত হতেও আমরা তত কম ভয় পাব।
আমার অতীত অভিজ্ঞতা থেকে আমি জানি, যখন আমি ভালোবাসা পেতে সংগ্রাম করছিলাম,
তখনই আমি সব থেকে বেশি নিরাপত্তাহীন ছিলাম,
যখন আমি ভালোবাসা পাওয়ার চেষ্টায় কঠোর পরিশ্রম করতাম, যখন আমি মানুষকে তোষামোদ করতাম।
কিন্তু যত আমি আমার প্রতি ঈশ্বরের ভালোবাসার নিরাপত্তা মধ্যে বেড়ে উঠেছি
ততই আমি আরো আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছি,
কম ভীত, আরো আত্মস্থ।
যেন ঈশ্বরের জন্য আমি আমার জীবন যাপন করতে পারি দুই ভাবে।
প্রথম হল এই পরিচ্ছন্ন সাদা স্যুট পরে,
এই ভয়ে থাকা যে শেষ পর্যন্ত আমি এই স্যুট কত পরিচ্ছন্ন
রাখতে পারব তার ভিত্তিতেই আমার জীবনের বিচার হবে।
তাই আমি কোনোভাবেই সেই ব্যক্তিকে সাহায্য করতে পারবো না,
যিনি গাড়ির চাকা পরিবর্তনের জন্য একজনের সহায়তা চান,
অথবা এক যুবতীকে সাহায্য করতে পারবো না যিনি অতিরিক্ত পান করেছেন
কিন্তু তাকে বাড়ি পৌঁছে দিলে আমার গায়ে দাগ লাগতে পারে,
যা আমার পরিচ্ছন্ন সাদা স্যুটকে অপরিচ্ছন্ন করে দিতে পারে।
অথবা আমি নিজেকে আলো হিসাবে দেখতে পারি,
এমন এক আলো যার এমন স্থানে যাওয়ার কথা যেখানে কোনো আলো নেই।
এর অর্থ এমন স্থানে ভালোবাসা নিয়ে যাওয়া যেখানে ভালোবাসা খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।
এর অর্থ তাদের মনে আশার সঞ্চার করা যারা আশা হারিয়েছে,
তাদের যত্ন করা যাদের সকলে অদৃশ্য মনে করে।
যীশু যাতে শ্রেষ্ঠ, তিনি এক গল্প বলেছিলেন যা এই যুক্তিকে প্রতিষ্ঠিত করে।
এটিকে প্রায়শই বলা হয় ভালো সামারিটান।
গল্পটি এক ব্যক্তিকে নিয়ে যে যিরুশালেম থেকে যিরীহোতে হেঁটে যাচ্ছিলো।
পথে ডাকাতেরা তাকে আক্রমণ করে।
তারা সর্বস্ব লুঠ করে এবং অর্ধমৃত অবস্থায়
তাকে রাস্তার ধারে ফেলে যায়।
প্রথম যে দুজন তাকে দেখে তারা হল একজন যাজক এবং একজন লেবীয়।
উভয়েই ইহুদি মন্দিরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আহত ব্যক্তিকে সাহায্য করার পরিবর্তে তারা রাস্তার অপরদিকে চলে যায়,
প্রকৃতপক্ষে যা যীশুর করা এক তামাশা
কারণ রাস্তাটি হাওয়ায় ভরা এবং সঙ্কীর্ণ হিসাবে বিখ্যাত ছিল।
কোনো অপরদিকই ছিল না।
এইভাবে যীশু ধর্মীয় নেতাদের চরিত্র বিবৃত করেন
হয় তার উপর দিয়ে যাওয়া অথবা তার চারপাশে ওঠা।
যে কারণে তারা এই ব্যক্তিকে পরিত্যাগ করে তা অন্যত্র আলোচিত হয়েছে,
অসুস্থ, মৃত অথবা মৃতপ্রায় ব্যক্তিদের স্পর্শ করা
একজনকে অশুদ্ধ এবং মন্দিরে প্রবেশের অযোগ্য করে তোলে।
এই গল্পে ধর্মাচরণের অর্থ মৃতপ্রায় মানুষকে পরিত্যাগ করা
যাতে পরিচ্ছন্ন থাকা যায় এবং ধর্মীয় দায়ত্ব পালন করা যায়।
পরবর্তী যে ব্যক্তি এই পথে আসে, সেই গল্পের নায়ক।
সে একজন সামারিটান।
অনেক ইহুদিই সামারিটানদের ঘৃণা করত কারণ তারা একই ধর্মের নিয়ম পালন করতো না।
কিন্তু এই ব্যক্তিকে এড়িয়ে যাওয়ার পরিবর্তে, সে তাকে সাহায্য করে,
তার ক্ষত দেখে,
তাকে স্থানীয় সরাইখানায় পৌঁছে দেয়, এবং তার চিকিৎসার খরচও বহন করে।
যাজক এবং লেবীয়র জন্য,
ধর্মচ্যুত হওয়ার ভয়
প্রকৃতপক্ষে তাদের ভালোবাসতে বাধা দেয়।
এবং যখন খ্রীষ্টানরা বাইবেল অথবা যীশুর শিক্ষাকে ভুল বোঝে,
তখনই সবকিছু মলিন হয়ে যায় এবং মানুষ স্বার্থপর হয়।
সামারিটানের জন্য ভালোবাসা হল ঠিক যেভাবে সে জীবন যাপন করে।
এই ধরনের গল্পই নেতিবাচক খ্রীষ্টান ছাপকে ভেঙে দেয়।
আর তারা আমাকে স্মরণ করিয়ে দেয় যীশুকে অনুসরণ করার অর্থ কী হওয়া উচিত,
সম্পূর্ণ জীবন যাপন করা উচিত, ভয়ের সঙ্গে নয়, অন্যের প্রতি ভালোবাসার সঙ্গে।