অনেকেই আমার উচ্চারণভঙ্গিতে বিভ্রান্ত হয়ে যায়
এবং প্রায়শই আমার জাতিগত পরিচয় নিয়ে ভুল করে।
তাই সঠিক তথ্য দেওয়া যাক।
আমি আইরিশ এবং তা আমার খুব পছন্দের।
ইউরোপের প্রান্তের এই ছোট দ্বীপের বাসিন্দা হওয়ার মধ্যে বিশেষ কিছু রয়েছে।
যদি আপনারা এই আবহাওয়া সহ্য করে নিতে পারেন।
আইরিশরা খুবই অতিথিবতসল এবং তাদের প্রবল গোষ্ঠীগত অনুভূতি আছে।
আরেকটি কারণে আমাদের মধ্যে অনেকেই আইরিশ হিসাবে গর্ববোধ করে তা হল,
কত ক্ষেত্রে আমাদের সাফল্য প্রশ্নাতীত।
আমাদের দেশ ৪৫ লক্ষ জনসসংখ্যার এক ছোট দেশ
এবং তা সত্ত্বেও আপনারা পৃথিবীর সর্বত্র আমাদের ছাপ দেখতে পাবেন।
১৬০০-তে আমরা পৃথিবীকে আধুনিক রসায়নশাস্ত্র এবং চকোলেট দুধ দিয়েছিলাম।
১৮০০-তে আমরা পৃথিবীকে বিউফোর্ট স্কেল দিয়েছিলাম,
ট্যাটু মেশিন এবং সাবমেরিন।
১৯০০-তে আমরা পৃথিবীকে দিয়েছি রেডিওথেরাপি,
ইজেকটর সিট এবং টাইটানিক।
আমরা কেবল নির্মাণ করেছিলাম, আমরা চালাইনি।
আবার উল্টোদিকে, আমাদের মধ্যে অনেকেরই বিচিত্ররকম বিবর্ণ চামড়া
যা ঘরের ভিতরে থাকলেও পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।
অসামাজিক হিসাবে আমাদের দুর্নাম আছে
এবং মদ্যপানের দুর্নাম।
যখন সকলে আমাদের সকলকে একই ছাঁচের ভাবে সেটা অস্বস্তিকর হতে পারে।
খ্রীষ্টান হিসাবে আমার পরিচয় একভাবে আমার আইরিশ পরিচয়ের মতই।
যেমন আমি খ্রীষ্টধর্মকে ভালোবাসি
এবং আমার নিজস্ব নম্র এবং হোঁচট খাওয়া পদ্ধতিতে যীশুকে অনুসরণ করার জন্য আমি গর্বিত।
ইতিহাস জুড়ে খ্রীষ্টানরা গির্জার মধ্যে অনেক কিছু করেছেন
যা আমাকে অস্বস্তি দেয় অথবা আরো খারাপভাবে, আমাকে লজ্জিত করে।
এই বিষয়ে আলোচনা করার সময় আমি অতীতকে অযথা মহিমাণ্বিত করবো না।
অতীতে কী ঘটেছিলো সেই বিষয়ে আমি সৎ থাকতে চাই।
কিন্তু খ্রীষ্টান গির্জার ভালো, মন্দ এবং কুৎসিতের দিকে দৃষ্টিপাতের আগে,
গির্জা প্রকৃতপক্ষে কী তা জেনে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
এখন আমি কোনো বিশেষ গির্জার কথা বলছি না
বরং প্রকৃতপক্ষে সমগ্র বিশ্বজনীন খ্রীষ্টান গির্জা।
এবং আমি কোনো বিশেষ স্থানের কথাও বলছি না।
গির্জা এবং ক্যাথিড্রালের অসাধারণ অন্দরসজ্জা,
এবং তাদের ঘষা কাচের জানালা,
সত্ত্বেও সেগুলি আসলে চার দেওয়ালের ভিতরে মানুষ বিবর্জিত ভবন।
আমার মনে হয়, গির্জাকে বোঝার সব থেকে সাহায্যকারী উপায় হল
তাকে পাপীদের এক হাসপাতাল হিসাবে গণ্য করা,
যাজকদের প্রদর্শশালা নয়।
যীশু স্বয়ং বলেছিলেন যে সুস্থ মানুষের চিকিৎসকের প্রয়োজন নেই, অসুস্থ মানুষের আছে।
যারা নিজেদের ন্যায়নিষ্ঠ মনে করে তাদের আহ্বান করতে আমি আসিনি
বরং তাদের যারা জানে যে তারা পাপী।
যীশুর মৃত্যুর মাধ্যমে বিশ্বকে ঈশ্বরের ক্ষমার দান
হল এক নিঃশর্ত উপহার।
এটি এমন কিছু নয় যা আপনারা অর্জন করে বলতে পারবেন।
এটি এমন নয় যে আপনাকে আপনার জীবন বাছাই করতে হবে
অথবা খ্রীষ্টান হওয়ার আগে সব কিছু নিয়মের মধ্যে আনা।
বাস্তব দিক হল ক্ষমাকে আপনার জীবন জয় করতে হবে,
তা আপনি যে পরিস্থিতিতেই থাকুন না কেন
অথবা আপনার ভুল কাজ যাই হোক না কেন।
খ্রীষ্টধর্মের এক সাধারণ সমালোচনা আছে যা আমি বারবার শুনি।
অনেকে বলবেন যে অনেক মানুষই আছেন যারা অধার্মিক যারা অনেক খ্রীষ্টানদের থেকে
আরো দয়ালু, এমনকী আরো নৈতিক।
এবং তা সত্যি হতে পারে।
কেন তা আপনাদের ব্যাখ্যা করি।
যদি গির্জা তৈরি করার একমাত্র মণ্ডলী
হতেন তারা যাদের সঙ্গে যীশুর পৃথিবীতে সেবাকার্যের সময় সাক্ষাৎ হয়েছিল,
তাহলে আপনি আতঙ্কিত হতেন।
সেই বিশেষ গির্জা ভর্তি থাকত কুটিল ব্যবসায়ী,
চোর, ব্যাভিচারী এবং যৌনকর্মী সহ অন্যান্য মানুষে।
আমি বলছি না যে এই মানুষেরা একই রকমের ছিল
কারণ শেষ পর্যন্ত তাদের জীবন আমূল পরিবর্তিত হয়।
কিন্তু কী হত যদি আপনারা গির্জার এইসব মানুষদের দেখা পেতেন
যীশুর সঙ্গে তাদের জীবন-পরিবর্তনকারী সাক্ষাতের পরে?
আপনি যদি আপাতভাবে তাদের দেখতেন যেখানে আপনি শুধু
তাদের পাপের কথা জানতেন কিন্তু তাদের গল্পের কথা নয়,
আপনি কি দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতেন না যে গির্জা ভণ্ড এবং নিম্নমানের মানুষে পূর্ণ?
আমি বলবো যে অনেক খ্রীষ্টানেরই
শ্রেষ্ঠ অ-ধার্মিক মানুষদের সঙ্গে কোনো তুলনা হয় না
যদি তা নৈতিক ব্যবহার ভিত্তিক হয়।
সব থেকে ভালো বললে, একজন খ্রীষ্টান হলেন কাজ চলছে এমন প্রকল্প এবং এক কার্যকর গির্জা
হবে অপরিণত এবং ভগ্ন মানুষে পূর্ণ,
যাদের মধ্যে কাউকে অনেক পথ অতিক্রম করতে হবে আবেগগতভাবে উন্নত হওয়ার সময়
সেইসঙ্গে আত্মিক ও নৈতিকভাবে।