আমাকে বহুবার জিজ্ঞাসা করা হয়েছে আমি কীভাবে ঈশ্বরে বিশ্বাস করতে পারি
যেখানে ধর্মের কারণে এত যুদ্ধ হয়েছে।
কেউ কেউ একথাও বলেন যে যদি ধার্মিক মানুষ
ঈশ্বরের অস্তিত্ব সম্পর্কে তাদের প্রত্যয় পরিত্যাগ করতে পারে,
তাহলে এই পৃথিবী আরো ভালো আরো শান্তিপূর্ণ স্থান হতে পারতো।
সত্য হল ইতিমধ্যেই অনেক প্রমাণ আছে যা বলে
ঈশ্বরকে তর্কের বাইরে রাখলে
তা বিশ্বশান্তির সমস্যার সমাধান করবে এমন নয়।
২০ শতককে সব শতাব্দীর মধ্যে সর্বাধিক রক্তাক্ত বলে চিহ্নিত করা হয়।
এই শতাব্দীতে পূর্বের সব শতাব্দীর যোগফলের থেকেও বেশি মানুষের হত্যা হয়েছে।
২০ শতকের মধ্যে আমরা চীনাদের,
কম্বোডিয়ান এবং রুশ শাসকদের উত্থান দেখি।
এই সরকারগুলিতে ধর্ম অথবা ঈশ্বর বিশ্বাস বর্জিত সমাজ গঠিত হয়,
এবং তা সত্ত্বেও তারা ব্যাপক হিংসা সৃষ্টির দায়ে অভিযুক্ত
এবং সেইসঙ্গে নিজেদের জনগনের হত্যার দায়ে।
তাই আমার মনে হয় ধর্মকে দায়ী করা অন্যায্য
কারণ যতবার যত যুদ্ধ হয়েছে তার কারণ,
কিন্তু আপনারা যদি বিশেষ করে খ্রীষ্টধর্মের দিকে দৃষ্টিপাত করেন
এবং যীশুর নামে যত নৃশংস কাজ হয়েছে,
তা এক জঘন্য বাস্তব, এবং তার কোনো ক্ষমা নেই।
ভারতীয় অহিংস আন্দোলনকারী গান্ধী
যিনি ব্রিটেনের কাছ থেকে ভারতের স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করেছিলেন, তিনি একবার বলেছিলেন
যে "আমি আপনাদের খ্রীষ্টকে ভালোবাসি, কিন্তু আপনাদের খ্রীষ্টানদের নয়,
কারণ আপনাদের খ্রীষ্টানরা আপনাদের খ্রীষ্টের থেকে কত আলাদা।"
এবং খ্রীষ্টধর্ম সম্পর্কে গান্ধীর সমালোচনা
খ্রীষ্টান ইতিহাসের কালো অধ্যায়ের কথা বলে।
তিনি তাদের বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন যারা নিজেদের খ্রীষ্টান হিসাবে দাবি করে,
তা সত্ত্বেও এমন অবিচারের দোষে দুষ্ট।
আমি তার ভাবনার প্রক্রিয়াকে শুধু কল্পনা করতে পারি।
কিভাবে যীশুর শান্তিরক্ষার বার্তা,
নিজের শত্রুকে ভালোবাসো, এবং যারা তোমার সঙ্গে অন্যায় করেছে তাদের ভালো করো,
যুদ্ধ এবং হত্যাকে ন্যায্যতা দেয়?
ধর্মযুদ্ধের সময়ের রক্তপাতের কথা শুধু ভাবুন,
যা ছিল মধ্যযুগের যুদ্ধের এক ক্রমাগত পর্যায়
ইউরোপের খ্রীষ্টান এবং মুসলিমদের মধ্যে।
দুপক্ষই গভীর নৃশংসতার অপরাধে অপরাধী
যা তারা ধর্মের নামে করেছিল বলে দাবি করে।
আমি শুধু ভাবি যীশুর প্রতিক্রিয়া কী হত
লক্ষ লক্ষ মানুষের এই মৃত্যুর প্রতি।
দুঃখজনক সত্য হল যে অনেক খ্রীষ্টান বাইবেল ব্যবহার করেছিল
দাসত্বের ভিত্তি হিসাবে,
এবং অন্যান্যরা জাতিভেদকে ক্ষমা করার জন্য বাইবেলকে ব্যবহার করেছিল।
এটি ভয়ঙ্কর।
এবং তারপরে যারা খ্রীষ্টানদের নেতৃত্বে ছিল,
তারা যৌন এবং শারীরিক নির্যাতনের দোষে দুষ্ট,
এবং অন্যান্যরা যারা কঠোর পরিশ্রম করে এই দোষ চাপা দেওয়ার চেষ্টা করে।
এই ঘটনা ঘটতে দেওয়া হল কেন?
এবং খ্রীষ্টধর্মের ক্ষেত্রে আর যারা দাবি করে
তারা খ্রীষ্টান তারা এই অন্যায় কাজ করে,
ন্যায় কাজ করতে বিচ্যূত হওয়ার কথা ছেড়েই দিলাম,
আমি যেখানে জোর দিতে চাই তা হল সমস্যা মানুষের।
মানুষই আমাদের মাথা নীচু করেছে,
মানুষই ভুল করেছে, যীশু নয়।
কারণ যীশু খ্রীষ্টধর্মের সংজ্ঞা নির্ধারণ করেন, মানুষের নয়।
যীশুই আমাদের দেখিয়েছিলেন ঈশ্বর কেমন হন,
এবং যীশুই আমাদের প্রেমময় জীবন যাপনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করে দেখিয়েছিলেন।
কারণ তাঁর সম্প্রদায় যাদের ঘৃণা করতো, যীশু তাদের ভালোবাসতেন।
যাদের তাঁর সম্প্রদায় হত্যা করতে চাইতো, যীশু তাদের ক্ষমা করেন।
এবং যাদের তাঁর সমাজ অসহ্য বলে মনে করতো,
যীশু তাদের গ্রহণ করেন এবং উপশম করেন।
এটি কখনো বিস্মৃত হলে চলবে না যে যীশু ছিলেন অবিচারের শিকার,
এবং ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার সময় তিনি তাঁর শত্রুদের হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
এমন মানুষ আছে যারা ভুল কাজ করেছে,
এবং তারা তার ন্যায্যতা প্রমাণ করতে চেষ্টা করে এই দাবিতে যে যীশুর নামে তা করা হয়েছে।
কিন্তু তা যীশুর নির্দেশের থেকে বহু দূরে।
আমাদের লোভ, ক্ষমতার বাসনা আমাদের ঘৃণা
আক্রমণ, দাসত্বে বন্দি এবং দুর্দশা দিতে শিখিয়েছে, যত্ন করার পরিবর্তে।
এবং এটি দুঃখজনক, কারণ এটি একেবারে বিপরীত
আমাদের কীভাবে পরিচিত হওয়া উচিত সেই বিষয়ে যীশু যা বলেছিলেন তার থেকে।
এইভাবেই সকলে চিনতে পারবে যে তোমরা আমার শিষ্য,
যখন তারা তোমাদের পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা দেখবে।