এই পৃথিবীতে আমার এ পর্যন্তের স্বল্প অথচ ঘটনাবহুল জীবনে
এক বাক্যাংশকে আমার দিকে নিক্ষিপ্ত করা হয়েছে
সম্ভবত যতটা হওয়া উচিত ছিল তার থেকেও বেশি।
এটি একটি বাক্যাংশ, বিখ্যাত শেষ শব্দগুচ্ছ।
আমার মনে পরে ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই
আমি এক বন্ধুর সঙ্গে শহরে গাড়ি চালাচ্ছিলাম।
এবং যদিও সে পার্কিং-এর টাকা দেবে বলে আমাকে অনুরোধ জানায়,
আমি তাকে বলেছিলাম যে আমরা মাত্র কয়েক মিনিট থাকবো
আর তাতে কিছু হবে না।
সে বিখ্যাত শেষ শব্দগুলি বলে ওঠে, দেখো কী ঘটে, আর আমি স্তব্ধ হয়ে গেলাম।
আরো একবার আমি আমাদের কাকার খামারবাড়িতে ভাইয়ের সঙ্গে গলফ খেলছিলাম।
যখন তার বল মারার সময় এলো,
আমি পাশে সরে দাঁড়ালাম।
সে আমাকে ফিরে আসতে বলে, কিন্তু আমি বলি এটাই খুব ভালো হবে।
সে সেই বিখ্যাত শেষ উক্তি করে,
আর আমার কপালে আজও সেই ক্ষতের ফোলা রয়েছে কারণ বলটি আমাকে এত জোরে আঘাত করেছিল।
আমি সব সময়ের কারোর চূড়ান্ত বিদায়বেলার উক্তির ফল ভোগ করেছি,
আর আমার উপর তাদের গভীরতম প্রভাব থেকেছে।
তার নাম ছিল ল্যারি, আমার বড়ো হয়ে ওঠার সময়ে সে ছিল আমার পাশের বাড়ির প্রতিবেশী।
তিনি পেশায় ডাকবাহক ছিলেন,
আর এক পুরনো ধাঁচের বাইক ব্যবহার করতেন
যার সামনে একটি ঝুড়ি থাকতো।
আমার মনে আছে প্রিস্কুলের সময়, ল্যারি যেহেতু ভোরবেলা কাজ করতেন,
তিনি দুপুরবেলা আমাকে তুলে নিতেন আর আমি ঝুড়িতে বসে বাড়ি ফিরতাম,
একেবারে স্বপ্নযাত্রা।
আমার মনে আছে আমি যখন কৈশোরে, ল্যারি সব সময় আমার জন্য থাকতেন।
এমন কতবার হয়েছে আমি স্কুল থেকে ফিরেছি,
আর চাবি নিতে ভুলে গিয়েছি, কিন্তু ল্যারি সব সময় আমাকে তার বাড়িতে আসার আমন্ত্রণ জানাতেন।
আমরা একসঙ্গে চা খেতাম আর চকোলেট খেতাম,
আর যদিও তিনি আমার থেকে ৪০ বছরের বড়ো ছিলেন,
তা সত্ত্বেও তিনি ছিলেন আমার প্রিয় বন্ধু,
আর তাই যখন তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে অত্যন্ত অসুস্থ হয়ে পড়েন,
আমার কাছে তা ছিল অত্যন্ত মর্মান্তিক।
তিনি তার শেষ দিনগুলি বাড়িতে কাটাবার সুযোগ পান
যখন আমি তার সঙ্গে গল্প করেছি ঠিক তার মৃত্যুর আগে।
এবং সেই সাক্ষাত আমার এত ভালো মনে আছে, তিনি যে কথাগুলি বলেছিলেন।
আমার মনে আছে এক মুখ হাসি নিয়ে
তিনি বলেন যে যীশুকে দেখার জন্য তিনি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।
আমি সত্যিই অবাক হয়ে গিয়েছিলাম, সেই সময় আমার মধ্যে ধর্মবিশ্বাস গড়ে উঠছিল,
কিন্তু একজন মৃত্যুপথযাত্রী মানুষের চোখে যে আনন্দ আমি দেখেছিলাম
সেই বাস্তব চিত্র আমার মনে এক গভীরতর আশার সঞ্চার করলো।
আর তারপর তার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়লো
যখন তিনি তার কিছু ভুলের কথা মনে করলেন,
আর তিনি আমাকে এক বিশেষ বন্ধুত্বের কথা বলেছিলেন
যা ভেঙে গিয়েছিল আর তিনি ঠিক করতে পারেননি, আমার চোখের দিকে সোজাসুজি তাকিয়ে তিনি বলেছিলেন
"জনি, সব কিছুর ঊর্ধ্বে, সদয় হোয়ো।"
এগুলি সাধারণ কথা হতে পারে, কিন্তু তা ১০ বছর আগে বলা।
যে গভীর প্রত্যয় তা আমার মনকে আলোড়িত করেছিল তা আজও আমার মধ্যে বিদ্যমান।
কথার তাৎপর্য আছে, বিশেষ করে তা যদি এমন কেউ বলে যাকে আপনারা গভীরভাবে শ্রদ্ধা করেন,
বিশেষত শেষ সময়ে বলা কথা আরোই তাৎপর্যপূর্ণ।
যীশুর জীবনের সব পর্যায়কে বিবেচনা করুন
যা আমরা এই পর্যন্ত ভিডিওগুলির মাধ্যমে দেখেছি,
যত অবিশ্বাস্য কথা তিনি বলেছেন।
তাঁর শিষ্য থোমাকে মনে আছে?
তার সন্দেহের মুহুর্তে যীশুই তাকে সাহায্য করেন।
তার অবিশ্বাসকে তিনি শাস্তি দেননি,
বরং তিনি বলেন, "আমার ক্ষতকে স্পর্শ করো, সেইসব স্থান স্পর্শ করো
"যেখানে পেরেক ফোটানো হয়েছে।"
যীশুর করুণা থোমার বিশ্বাসকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে সাহায্য করে।
অথবা সেই নারী যে ব্যাভিচারের দায়ে অভিযুক্ত হয় এবং যাকে যীশুর পায়ে ফেলে দেওয়া হয়।
সে বিচার প্রত্যাশা করেছিল কিন্তু সে যা পেয়েছিল তা হল ক্ষমা,
এবং সেখান থেকে গিয়ে নতুন জীবন শুরু করার উপদেশ দিয়ে যীশুর জীবন-পরিবর্তনকারী বাণী।
তাই যত অবিশ্বাস্য কথা তিনি বলেছেন,
তার মধ্যে বিদায়বেলার শব্দ হিসাবে তিনি কী মনোনীত করেছিলেন বলে আপনাদের মনে হয়?
তাঁকে হত্যা করা হয় এবং তাঁর পুনরুত্থান হয়।
তারপর তিনি শিষ্যদের সঙ্গে ৪০ দিন কাটান,
এবং স্বর্গে উত্থানের ঠিক পূর্বে তিনি তাঁর শিষ্যদের এই কথা বলে যান।
"আমি স্বর্গ এবং পৃথিবীতে সব কর্তৃত্ব দিয়েছি।
"অতএব, তোমরা যাও এবং সব জাতির মানুষদের শিষ্যত্ব দাও,
"তাদের বাপ্তিস্ম দাও পিতার এবং পুত্র এবং পবিত্র আত্মার নামে।
"আমি তোমাদের যে আদেশ দিয়েছি শিষ্যদের তা পালন করার শিক্ষা দাও,
"এবং এই বিষয়ে নিশ্চিত থাকো, আমি সর্বদা তোমাদের সঙ্গে আছি, "এমনকী যুগান্ত পর্যন্ত।"
এই কথাগুলি যীশুর অন্য কোনো কথার থেকে
বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়, কিন্তু সব কিছুর ঊর্ধ্বে,
যীশু চেয়েছিলেন তাঁর শিষ্যরা অন্যের উপর মনোনিবেশ করুক।
তিনি তাদের হৃদয়ে এক গভীর প্রত্যয় জাগাতে চেয়েছিলেন
যে তারা তাঁর কাছ থেকে যা গ্রহণ করেছে তা নিজেদের জন্য রাখার কারণে নয়,
বরং সমগ্র বিশ্বের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার জন্য।
তাঁর বাণী ভাগ করা
এবং তাঁর জীবন-পরিবর্তনকারী বার্তা কখনোই কোনো বিশেষজ্ঞের কর্ম নয়,
তা আপনার আমার মত সাধারণ মানুষের কাজ।
সেই যুগে বলা যীশুর বিদায়বেলার বাণী আজও অকাট্য
যখন আমরা প্রথম শিষ্যের কাজই করে চলেছি।
যা আমাকে অন্যের কাছে পৌঁছবার আত্মবিশ্বাস দিয়েছে
এবং আমার বিশ্বাস সকলের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার তা হল আমার ভূমিকা বুঝে নেওয়া।
সকলকে আস্থা রাখতে নিশ্চিত করা আবশ্যিকভাবে আমার কাজ নয়,
বরং মানুষকে দ্বার দেখানোই আরো বেশি করে আমার কাজ।
যীশু আমাকে বলেছেন তাঁর বার্তার প্রত্যাশা ভাগ করে নিতে
যা আমি লাভ করেছি এবং অবশিষ্ট কাজের জন্য ঈশ্বরের উপর আস্থা রাখতে।
ঈশ্বরই সেই জন যিনি নিজেকে পরিচিত করাতে পারেন,
এবং একমাত্র ঈশ্বরই জীবনকে রূপান্তরিত করতে পারেন।
এটা কিছুটা রুটি তৈরি করার মত।
এত পরিমাণ ময়দা দেওয়া হয়,
কিন্তু তা সত্ত্বেও সামান্যতম তাড়ি সমস্ত বস্তুকে রূপান্তরিত করে।
যীশু তাঁর বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রসঙ্গে এই সাদৃশ্যের কথাই ব্যবহার করেন।
তিনি বলেন স্বর্গের রাজত্ব হল তাড়ির মত
যা নিয়ে এক মহিলা প্রায় ৬০ পাউন্ড ময়দায় মেশান
যতক্ষণ না তা ময়দার মধ্যে ঢুকে কাজ করে।
এবং তারপরেই আসল বস্তু প্রস্তুত হয়, আমরা এই তাড়ির মত হতে পারি।
আমরা নিজেদের ধর্মবিশ্বাস ভাগ করে নেওয়ার মাধ্যমে যীশুর সঙ্গে যোগ দিতে পারি
এবং ঈশ্বরের উপর আস্থা রাখতে পারি যে তিনি তাঁর রাজত্ব নির্মাণ করবেন।
রুটি তৈরি এবং অন্যের জন্য জীবন যাপন করা প্রায়শই একই অগোছালো বাস্তবতার নামান্তর।
অনেক সময় লাগে।
মাঝেমাঝে তা একটু আঠালো হয়ে যেতে পারে
কিন্তু যা উৎপন্ন হয় তা সব সময়েই পরিশ্রমকে সফল করে।
আমার মনে এক গভীর প্রত্যয় আছে
আমার গত ২০ বছরের ধর্মবিশ্বাসকে অন্যের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া।
সব সময় সেইভাবে তা হয়নি।
আমার বিশ্বাস শুরু হয়েছিল যীশু কে তাই দিয়ে,
এবং তারপর ঈশ্বরের সঙ্গে আমার সম্পর্ক গড়ে ওঠে,
আমি নিশ্চিত হয়ে যাই যে আমি যার সন্ধান পেয়েছি তা এমন কিছু যা সকলের প্রয়োজন।
আপনাদের প্রতি আমার আহ্বান হল যীশুর বিদায়বেলার বাণীকে গুরুত্ব সহকারে দেখুন
এবং একজন বন্ধুর কথা ভাবুন যাকে আপনি বিশ্বাসের খেলায় আমন্ত্রণ জানাতে পারেন।
আমি আশা করি আপনারা এই ধারাবাহিককে ব্যবহারে অনুপ্রাণিত এবং আত্মবিশ্বাসী হবেন
আপনাদের বন্ধুদের সঙ্গে কথোপকথন শুরু করার ক্ষেত্রে যা সম্ভব বলে আপনি কখনো ভাবেননি
এবং যীশুর প্রতি আপনার আস্থা ভাগ করে নেওয়ার ক্ষেত্রে।
প্রশ্ন দারুণ ভ্যান, মিনি অথবা আমার রুটি কী অপূর্ব দেখতে হয়েছে তাই নিয়ে নয়।
এটি হল এই বিশ্বাস রাখা যে ঈশ্বর যা করেন তা আমাদের কল্পনারও ঊর্ধ্বে
এবং সদর্থে বিশ্বাস করা যে আমরা যখন বিশ্বাসের সেই পদক্ষেপ গ্রহণ করবো যীশু আমাদের সঙ্গে আছেন
এবং এই যাত্রায় আপনার সঙ্গে আরো কাউকে আমন্ত্রণ জানান।
আমি শিষ্য ফিলিপের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করতে চাই।
যীশু যখন চারিদিকে ঘুরে সকলকে তাঁর শিষ্য হওয়ার কথা বলছেন,
তিনি ফিলিপের কাছে যান এবং বলেন, "আমাকে অনুসরণ করো।"
এবং ফিলিপ তৎক্ষণাৎ তা গ্রহণ করে
এবং গিয়ে তার বন্ধু নাথানিয়েলকে খুঁজে পায়
আর তাকে বলে, "আমরা তাঁকে খুঁজে পেয়েছি "মোশি যার কথা লিখেছিলেন আইনে
"এবং যার সম্পর্কে ভাববাদীরাও লিখেছিলেন,
"নাজারেথের যীশু, যোষেফের পুত্র।"
আর নাথানিয়েলের প্রতিক্রিয়া ছিল যথাযথ।
সে বলে, "নাজারেথ?
"সেখান থেকে ভালো কিছু কি আসতে পারে?"
আর ফিলিপ কী বলে?
"এসে দেখে যাও।"
আমাদের অনেক বন্ধুর ভাবনাই নাথানিয়েলের মত হবে।
তারা ভাববে যীশু, ধর্মবিশ্বাস, খ্রীষ্টধর্ম।
সেখান থেকে ভালো কিছু কি আসতে পারে?
আর আমাদের কাছে সব উত্তর থাকবে তা জরুরি নয় এবং সেটা ঠিক আছে,
কিন্তু আমরা যা করতে পারি তাহল কাউকে এসে দেখতে বলা।
তাই একজন বন্ধুর কথা ভাবুন।
ঈশ্বরের কাজ করার জন্য তাঁর কাছে প্রার্থনা করুন এবং অভিযানটিকে উপভোগ করুন।