আমার জন্ম হয় উত্তর আয়ারল্যান্ডে
এবং অত্যন্ত সমস্যাসঙ্কুল সময়ে আমি পুলিশের চাকরি করি।
সেই সময় ছিল সমগ্র উত্তর আয়ারল্যান্ডের সকল সম্প্রদায়ের পক্ষে এক কঠিন সময়।
সেই অশান্তি এবং হিংসার মধ্যে,
আমি তিনটি বোমা বিস্ফোরণের হাত থেকে রক্ষা পাই এবং তৃতীয় বিস্ফোরণের সময়
আমি আমার হাত খোয়াতে বসেছিলাম আর ডাক্তাররা পরে আমাকে বলেন
যে প্রকৃতপক্ষ আমার মৃত্যুই হতে পারতো।
আমার কনুই ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছিল অর্ধেক হাত কেবল মাংস দিয়ে ধরা ছিল।
শল্য চিকিৎসকরা হাত বাদ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন,
কিন্তু আমার বিশ্বাস ছিল ঈশ্বর তা ঠিক করে দিতে পারবেন।
আগে আমাকে তিনটি হাসপাতালে পাঠানো হয় তারপর একজন শল্য চিকিৎসক চেষ্টা করতে সম্মত হন,
কিন্তু এও বলেন যে হাত আর কার্যকর থাকবে না।
কিন্তু আজ সব প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে, আমার হাত সম্পূর্ণ কার্যকর।
আমাকে তারপর অসুস্থতার কারণে পুলিশের কাজ থেকে ছুটি দেওয়া হয়,
এই বিশ্বাসে যে আমার অভিজ্ঞতা চরম খারাপ ছিল।
কিন্তু পাঁচ বছর পরে,
এক জন্মদিনের অনুষ্ঠান থেকে স্ত্রী ও দুই কন্যাকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে,
আমাদের গাড়ির সঙ্গে অন্য একটি গাড়ির ধাক্কা
লেগে আমরা এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনার সম্মুখীন হই।
আমার স্ত্রী এবং কনিষ্ঠা কন্যার মৃত্যু হয়
এবং আমার জ্যেষ্ঠা কন্যার একদিক পঙ্গু হয়ে যায়।
দশ দিন কোমায় থাকার পর যখন আমার জ্ঞান ফেরে,
আমাকে বলা হয় যে হাসপাতালে আনার পথে আমার অন্তত পাঁচবার মৃত্যু হয়।
আমার খুলিতে আঘাত লেগেছিল।
আমার চোখের কোটর, নাক, চোয়াল, কাঁধ এবং পাঁজর ভেঙে গিয়েছিল
এবং আমার ফুসফুসে ফুটো হয়ে গিয়েছিল।
কোমায় থাকার সময় শল্য চিকিৎসক আমার পরিবারকে বলেছিলেন যে আমি বাঁচতে পারবো না।
আমি এই পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছি, এবং আমি জানি অনেক মানুষেরই এতে কী হয়,
কিন্তু প্রকৃতপক্ষে
আমি যীশুকে অনুভব করেছি।
আমি তাঁর প্রেমের বোধ এবং শান্তিতে অভিভূত হয়ে যাই।
আমার মায়ের কাছে এলে তিনি আমাকে আমার স্ত্রী এবং কনিষ্ঠা কন্যার খবর দেন।
সত্যি বলতে, এই খবর শুনে আমার আবার কোমায় ডুবে যেতে ইচ্ছা হল।
কিন্তু জ্যেষ্ঠা কন্যার খবর আমাকে বেঁচে থাকার এবং সুস্থ হওয়ার জন্য লড়াই করার শক্তি দিল।
আমি ভাষায় বিবৃত করতে পারবো না সেই হৃদয় যন্ত্রণার গভীরতার কথা
যা আমি সেইদিনের পর অনুভব করেছিলাম।
যীশুর সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ সবকিছুর সমাধান দেয়নি অথবা সব প্রশ্নেরও উত্তর দেয়নি।
কিন্তু তা দুটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে পার্থক্য গড়ে দিয়েছিল।
আমি জানতে পেরেছিলাম যে যীশু আমার দুর্দশায় উপস্থিত ছিলেন
এবং আমার শরীরের এবং আমার কন্যার পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে,
আমি জানতে পেরেছিলাম যে ঈশ্বর আমার দুর্দশার থেকে বৃহত্তর।
দুর্ঘটনার পাঁচ সপ্তাহ পরে,
আমি আমার চার বছরের কন্যাকে নিয়ে হাঁটছিলাম,
এবং আমরা দুজনেই আশা এবং পুনরুদ্ধারের এক যাত্রায় ছিলাম।
আমি আপনাদের গল্প এবং দুর্দশার অভিজ্ঞতার কথা জানি না।
হয়ত তা আমার বন্ধু ডেভিডের মত।
যদিও আমার অভিজ্ঞতা থেকে,
শ্রেষ্ঠ উদ্দেশ্যসম্পন্ন মানুষেরাও নিকৃষ্টতম কথা বলতে পারে।
যেমন, হয়ত আপনার সম্প্রতি সম্পর্ক ভেঙেছে এবং কেউ বলল, এটা দারুণ।
আপনি তা অতিক্রম করে যেতে পারবেন।
সমুদ্রে আরো অনেক মাছ আছে।
আপনারা প্রথমেই চিৎকার করে বলতে চাইলেন আমি মাছ ঘৃণা করি
এবং দ্বিতীয়ত, আমি তা অতিক্রম করতে চাই না।
তারা হয়ত বলবে, সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে, সত্যি।
এবং আমি জানি এটা হয়ত একটু রূঢ় শোনাবে,
কিন্তু আপনি তাদের এটাই বলতে চাইবেন যে চুপ করো
কারণ আপনি চান না সব কিছু ঠিক হয়ে যাক।
আপনি পরিবর্তন চান না।
সব কিছু আগে যেমন ছিল আপনি শুধু সেখানে ফিরে যেতে চান।
মানুষের হৃদয় ভালো এবং উদ্দেশ্যও ভালো থাকে,
কিন্তু মাঝে মাঝে তাদের কথা নিয়েই সমস্যা হয়।
আমাদের সকলের প্রয়োজন উপলব্ধি করা এবং স্বীকার করা
যে দুর্দশার সময়ে,
আমাদের কম কথা বলা প্রয়োজন এবং শুধু নিজেদের উপস্থিতি দিয়ে সমর্থন জানানো।
যোহনের সুসমাচারে,
যীশুর বন্ধু মরিয়ম এবং মার্থা তাঁকে খবর পাঠায়
যে তাদের ভ্রাতা লাসার খুবই অসুস্থ
এবং সব কিছু ভালো বোধ হচ্ছে না।
তারা তাঁর বন্ধু
আর তারা তাঁকে খুব ভালো করে জানে যাতে তাদের এই দুর্দিনে তারা যীশুকে খবর পাঠাতে পারে।
তবে যীশু সেখানে পৌঁছবার আগেই লাসারের মৃত্যু হয়।
পরিবারের মানুষেরা প্রস্তুতি নিয়ে তার দেহ কাপড়ে মুড়ে ফেলে।
তারা কান্নাকাটি করেছিল এবং তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া করেছিল এবং তার দেহ সমাধিস্থ করেছিল।
যীশু যখন তাদের বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন,
মরিয়ম এবং মার্থা দুজনেই তাঁকে একই কথা বলে, কিন্তু পৃথক ভাবে এবং ভিন্ন সময়ে।
আপনি যদি সেই সময়ে থাকতেন, লাসার জীবিত থাকতো।
আপনারা এবং আমিও একই কথা বলেছি।
হয়ত একই কথায় নয়, কিন্তু আমরা ভগিনীর অভিযোগের সঙ্গে একমত
যে ঈশ্বর উপস্থিত ছিলেন না এবং যুক্ত ছিলেন না।
যীশু আত্মরক্ষা করেন না।
তিনি ক্রুদ্ধ হন না।
তিনি বলেন না যে আমি ঈশ্বর এবং যা চাই তাই করতে পারি।
পরিবর্তে, আমরা জেনেছি যে যীশু কেঁদেছিলেন।
আপনারা যদি লাসারের কথা শুনে থাকেন অথবা তার গল্প জানেন,
আপনারা জানবেন যে যীশু তাকে মৃত্যু থেকে উত্থিত করেছিলেন।
এই অলৌকিক ঘটনা আসন্ন ছিল এবং তাদের পরিস্থিতি পরিবর্তিত হতে চলেছিল।
কিন্তু তাও তাদের শোকের মধ্যে
এবং তাদের যন্ত্রণা, ক্রোধ এবং তাদের অশ্রু,
যীশু তাদের সঙ্গে কাঁদেন এবং তাদের ব্যথা ভাগ করে নেন।
এইভাবেই আমি জেনেছি ঈশ্বর কীভাবে দুর্দশায় প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
এবং আমার বন্ধু ডেভিডও সেই অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিল।
যীশু হলেন ঈশ্বর যিনি কেবল আমাদের জন্য দুর্দশা
ভোগই করেননি, আমাদের সঙ্গেও দুর্দশা ভোগ করেন।