মৌখিক শিক্ষা খ্রীষ্টধর্ম প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
কথার মাধ্যমে তথ্য সঞ্চারিত করা।
আপনি হয়ত ভাবছেন আজ সকালে কী খেয়েছি তাই মনে নেই,
বহু বছর আগের কথার তো প্রশ্নই নেই।
যীশুর জীবন এবং শিক্ষার কথা সবিস্তারে মনে রাখা কারোর পক্ষে অসম্ভব,
বিশেষ করে তাঁর মৃত্যুর ৩০ বছর পরে।
ন্যায্য কথা।
কিন্তু এটি বিবেচনা করুন
যীশু এবং তাঁর শিষ্যরা যে পৃথিবীতে থাকতেন তা আমাদের পৃথিবীর থেকে অনেক আলাদা।
আমাদের এই সংখ্যাগত পৃথিবীতে আমরা মানসিক পেশীগুলি তত ব্যবহার করি না
যা ব্যবহার করতে হত কারণ আমাদের যন্ত্র আমাদের হয়ে মনে রাখে।
আমার বাবাকে তার নিজের নম্বরের জন্যও তার ফোনের কনট্যাক্ট দেখতে হয়।
এখন তিনি বৃদ্ধ।
কিন্তু আপনি কতগুলি নম্বর জানেন?
নিজের নম্বরই কি মনে আছে?
প্রথম শতাব্দীর ইহুদি সংস্কৃতিতে,
মনে রাখার ক্ষমতা অবিশ্বাস্যরকমের ভালো ছিল।
যীশু যখন তাঁর প্রথম শিষ্যদের মৎসজীবীর জীবন থেকে ডাকেন
তারা এক নতুন যাত্রার সূচনা করত।
যেখানে তাদের তাঁর বিপুল শিক্ষা গ্রহণ করতে এবং মনে রাখতে হত।
যেহেতু তখনো ছাপাখানার উদ্ভব হয়নি।
শিক্ষার মূল মাধ্যমই ছিল মুখের কথা
এবং সাধারণ মানুষের মনও সাংস্কৃতিক তারে বাঁধা থাকত
যাতে তারা প্রতিটি শব্দ ধরে তথ্য বুঝতে এবং তা আবার বলতে পারে।
সেই সময়ে রাব্বিদের প্রশিক্ষণের অংশ হিসাবে
সমগ্র ইহুদি ধর্মগ্রন্থ মুখস্থ করতে হত।
যা আমাদের কাছে সমগ্র পুরাতন নিয়ম।
এটি একটি বিজ্ঞানের পাঠ্যপুস্তকের মত।
বাইবেলের ক্ষেত্রে
আমাদের মধ্যে অনেকেরই বিভিন্ন অভিজ্ঞতা আছে আর অনেকেই হয়ত কিছুটা বিভ্রান্ত
কারণ কেউ কেউ মনে করেন এটি এক বিশাল গ্রন্থ।
কিন্তু বাইবেলের প্রকৃত ল্যাটিন শব্দ হল বিবলিয়া,
যা হল একটি গ্রন্থ সংকলন
কারণ বাইবেলে রয়েছে পত্র, এবং গল্প এবং আখ্যানসমূহ,
এবং এটি প্রকৃত ইতিহাসকে বিবৃত করে যা ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে দেওয়া যেতে পারত।
আপনি তা দেখতে পাবেন লুক যেভাবে
থিওফিলাস নামে এক ব্যক্তিকে চিঠি লিখেছেন।
তিনি তার চিঠি এইভাবে শুরু করছেন।
অনেকেই বিবৃতি লিখেছেন
সেইসব ঘটনা সম্পর্কে যা আমাদের মধ্যে পূর্ণ করা হয়েছে।
তারা আমাদের মধ্যে প্রচলিত প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য ব্যবহার করেছে
যা প্রথম শিষ্যদের থেকে প্রাপ্ত হয়েছিল।
শুরু থেকে সব কিছু সযত্নে পরীক্ষা করে
আমিও আপনাদের জন্য উপযুক্ত একটি রচনা লেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি
যাতে আপনি যা শেখেন তার সত্য সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেন।
লুক যীশুর সম্পর্কে তার তথ্য নির্ভুল করতে কঠোর পরিশ্রম করেছিলেন,
কিন্তু তা আজকের মত নয় যে তিনি অনলাইন পোস্ট করলেন আর তা লক্ষধিক শেয়ার পেলো।
বরং থিওফিলাসকে লেখা তার ব্যক্তিগত চিঠি পৃথিবীর সামনে আসে।
সেই সময়ে লুক এবং অন্য তিনজন লেখক একই গল্প বলেছেন,
তবে ভিন্ন পরিপ্রেক্ষিতে
তাহলে এই প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে এখনো এত বিতর্ক কেন?
উত্তর হল, তাদের সমর্থনে যতই সাক্ষ্য থাকুক না কেন,
এই গল্পগুলি বিশ্বাস করা সব সময়েই কঠিন।
যদি কেবল একজন ব্যক্তি ঘুরে বেড়িয়ে শিক্ষা দিতেন,
তাহলে কোনো সমস্যা থাকতো না৷
সমস্যা হল, এই গল্পগুলি অতিপ্রাকৃত অলৌকিক ঘটনায় পূর্ণ।
কিন্তু যা এগুলিকে অবিশ্বাস্য করে,
আবার এগুলোই এদেরকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে।
অলৌকিক ঘটনা প্রমাণ করা সব সময়েই কঠিন
কারণ তা আমাদের এই পৃথিবী সম্পর্কে জ্ঞানের ঊর্ধে।
কিন্তু আমার পরামর্শ হল
আমরা যদি ঐতিহাসিকদের নীতি এবং তত্ত্ব প্রয়োগ করি,
তাহলে যীশুর অলৌকিক কর্ম বিশ্বাস করা সহজ।
প্রথমত আমাদের কাছে সুসমাচারের বিবরণ আছে
এর প্রতিটি বিভিন্ন ধরনের অলৌকিক ঘটনা বর্ণিত করে।
অন্ধ মানুষ দৃষ্টি ফিরে পেয়েছে,
মৃতেরা উত্থিত হয়েছে, দুষ্ট-আত্মাদের দূর করা হয়েছে
এবং প্রবল ঝড়কে মুহূর্তে শান্ত করা হয়েছে।
যীশু কি সহস্রাধিক মানুষকে মাত্র তিন বছরে একত্র করতে পারতেন
৩০ বছরে তাঁর বাপ্তিস্ম থেকে ৩৩-এ তাঁর মৃত্যুর মধ্যে?
সব সময়েই যদি তিনি ভণ্ড থাকতেন?
এবং দ্বিতীয়ত, তাঁর অলৌকিক কর্মকে কেউই অস্বীকার করেনি।
এতে বিস্ময়ের কিছু নেই যে যারা তাঁকে ভালোবাসত এবং সমর্থন করত
তারা তাঁর কীর্তিকে স্বীকৃতি দেবে।
কিন্তু বিস্ময়কর হল, যে ধর্মীয় নেতারা
তাঁর মৃত্যু চাইতেন, তারাও তাঁকে স্বীকৃতি দেন।
তারা কখনো তাঁর অলৌকিক ক্ষমতাকে প্রশ্ন করেনি।
তাদের প্রশ্ন ছিল এই ক্ষমতার উৎস নিয়ে।
তারা তাঁকে অশুভ বলে অভিযোগ করতেন।
আর শেষে আমাদের এই প্রশ্ন করতে হবে, যীশু কেন এক অখ্যাত ইহুদি শিক্ষক ছিলেন?
ঐতিহাসিকভাবে সব থেকে প্রমাণসাধ্য ব্যক্তি?
কোনো রাজা অথবা সম্রাটের থেকে তাঁর সম্পর্কে বেশি লেখা হয়েছে কেন
যারা তাঁর আগে অথবা পরে এসেছেন?
আমার ধারণা তিনি নিশ্চয়ই অত্যাশ্চর্য কিছু করেছিলেন।