প্রাচীন বিশ্বের থেকে চিত্তাকর্ষক আর কিছু নেই।
এটি এতই রহস্যময় এবং আকর্ষণীয়
যে অনেকেই এর অনুসন্ধানে অর্ধেক পৃথিবী ঘুরে ফেলে।
আর এই আইরিশ ব্যক্তিটিও কোনো ব্যতিক্রম নন।
অবলুপ্ত জাতির সত্য সন্ধানে আমরা কৌতূহলী
যেমন প্রাচীন গ্রীক, রোমান
এবং সবথেকে বিখ্যাত মিশরের ফারাও।
যদিও তারা নেই, কিন্তু তাদের গল্প আর ধ্বংসস্তূপ আজও আছে।
এই পৃথিবীতে মানুষ যতদিন আছে, তাদের গল্প বলাও চলবে।
তাদের খ্যাতির সব থেকে বড়ো শত্রু হল এক প্রাচীন মূর্তি
যার অনুসন্ধান আজও লক্ষ লক্ষ মানুষ করে চলেছে, যীশু খ্রীষ্ট।
কিন্তু আমি আমার মতে বিবেক
যাকে অনেকেই মনে করে জগতের কেন্দ্রস্থল
যে তার ইতিহাস প্রাচীন ফারাওদের মত বিশ্বাসযোগ্য নয়
এবং অনেকেই তার বিরোধিতা করে।
আমাদের পৃথিবীর ধর্মগুলিতে যীশু খ্রীষ্ট সম্পর্কে ভিন্ন ভিন্ন গল্প আছে।
আর তাই আমাদের দায়িত্ব
হল নিজেদের জন্য সেগুলির থেকে তাঁর সম্পর্কে সত্যের সিদ্ধান্ত নেওয়া।
নিজের চোখে দেখা প্রাচীন মিশরের খোদাইগুলি বিশ্বাসযোগ্য
কারণ আমরা জানি তা প্রাচীন জীবনের বর্ণনা,
সেই সময় উপস্থিত মানুষের কাছ থেকে।
আমার মতে, যীশু খ্রীষ্ট সম্পর্কেও তা সত্য হওয়া উচিত।
যীশুর যত ঐতিহাসিক তথ্য আছে তার মধ্যে
সব থেকে প্রমাণসাধ্য এবং বিশ্বাসযোগ্য হল
যারা তাঁর ঘনিষ্ঠতম তাদের প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য।
আমার ধারণা, মিশরীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা যীশুর প্রত্যক্ষদর্শীদের সমান
কারণ তারা কখনো ভাবেনি
যে লক্ষ লক্ষ মানুষ তাদের বিবরণ অনুসন্ধান করবে
অথবা ২০০০ বছর পরেও তাদের বিবরণ পড়া হবে
এবং সর্বকালের সর্বাধিক বিক্রীত গ্রন্থের তালিকাভুক্ত হবে।
তারা কেবল তাদের বন্ধুদের জন্য লিখেছিলেন
এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য যারা অধিক জানতে আগ্রহী।
এই ছোট বইগুলির নাম সুসমাচার, অর্থাৎ সুখবর।
এগুলি লিখেছিলেন চার ব্যক্তি, মথি, মার্ক, লুক এবং যোহন।
এই বইগুলি এবং বাইবেল সম্পর্কেও একটি সাধারণ প্রশ্ন আছে।
যা আমরা আজ আমাদের বাইবেলে পড়ি
২০০০ বছর আগে কী হতে পারত?
এবং এটি কি বিশ্বাসযোগ্য হতে পারে?
কারণ খ্রীষ্টধর্মের একটি সাধারণ সমালোচনা
হল যীশুর উৎস রচনাগুলি পরিবর্তিত হয়েছে
প্রাচীন খ্রীষ্টানদের যে কোনো কারণে।
তাহলে আমরা কি সেগুলি বিশ্বাস করব?
ঐতিহাসিকরা একাধিক বিষয় সন্ধান করেন
যখন তারা কোনো প্রাচীন লিখনের প্রামাণ্যতা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেন।
তারা প্রশ্ন করেন, যেমন, প্রকৃত ঘটনার পরে কত দ্রুত এটি লেখা হয়েছে?
এই ইতিহাসের কত প্রতিলিপি আছে এবং তা কি নির্ভুল?
এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য কি আছে?
প্রাচীন বিশ্বের বীর যোদ্ধা আলেকজান্দারের কথা ভাবুন।
তার জন্ম হয়েছিল খ্রীষ্টের জন্মের ৩০০ বছর আগে।
কিন্তু তার সম্পর্কে প্রাপ্ত তথ্য লেখা হয়েছে তার মৃত্যুর অন্তত ৩০০ বছর পরে।
দুটি লিখেছিলেন ঐতিহাসিক আরিয়ান এবং প্লুটার্ক
যারা অবশ্যই আলেকজান্দারকে অথবা সেই শতাব্দীর কাউকেই জানতেন না।
কিন্তু সময়ের পার্থক্য সত্ত্বেও, আমরা সাধারণত তাদের লেখা ইতিহাসকে
সব থেকে নির্ভরযোগ্য তথ্যের স্বীকৃতি দিই কারণ কোনো মূল রচনা
যা তার জীবৎকালে লেখা হয়েছিল তা পাওয়া যায়নি।
রোমের সম্রাট জুলিয়াস সিজারের কথা আমরা সবাই জানি, যার জন্ম খ্রীষ্টপূর্ব ১০০-তে।
কিন্তু চাঞ্চল্যকর তথ্য হল তার মৃত্যুর ১০০০ বছরে
আমরা তার জীবনবৃত্তান্তের মাত্র ২০টি অনুলিপির খোঁজ পেয়েছি।
তার সম্পর্কে এত কম তথ্য পাওয়া সত্ত্বেও
আমরা এই তথ্যগুলিকে ইতিহাসের স্বীকৃতি দিই।
স্পষ্টভাবে বললে, আমি বলছি না যে এই তথ্যগুলিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত নয়।
আর এখানেই উল্লেখযোগ্য বিষয়।
ঐতিহাসিক অভ্রান্ততার বিচারে, যীশুর রচনা বিশ্বাস করার কারণ
আলেকজান্দার অথবা সিজারের থেকে অনেক বেশি।
মূল নথিপত্র যীশুর জীবনাবসানের পরেই লেখা হয়,
কয়েকটি মাত্র ৩০ বছরের মধ্যে,
আর তখনো তথ্যের সত্যতা বিচারের জন্য প্রত্যক্ষদর্শীরা বেঁচে ছিল।
আর অনুলিপি করার যথার্থতার ক্ষেত্রে
আমাদের ৫০০০ এরও বেশি প্রাচীন পাণ্ডুলিপি আছে
যাতে আংশিক অথবা সমগ্র পুরাতন নিয়ম লেখা আছে।
আর তা শুধু গ্রীক ভাষায়।
আমাদের ৮০০০ এরও বেশি ল্যাটিন ভাষার আর ৯০০০ অন্যান্য ভাষার পাণ্ডুলিপি আছে।
আর এই সবই লেখা হয়েছে যীশুর মৃত্যুর ৩০০ বছরের মধ্যে।
এর সঙ্গে সিজারের ইতিহাসের মাত্র ২০ টি অনুলিপির
তুলনা করুন যা তার মৃত্যুর ১০০০ বছর পরে লেখা।
তাই ঐতিহাসিক তথ্যের বিচারে,
আমার মনে হয়, যীশু অতুলনীয়।
এক প্রজন্মের মধ্যেই তাঁর কাহিনী ছড়িয়ে পড়েছিল।
একজন অবিবাহিত শরণার্থী গেঁয়ো লোকের সন্তান হিসাবে খারাপ নয়
যিনি বিশ্বের বৃহত্তম সাম্রাজ্যের এক অখ্যাত কোণে থাকতেন।
তাই আমরা যদি আলেকজান্দারের তথ্যকে স্বীকৃতি দিই
এবং জুলিয়াস সিজারের অথ্যকে নির্ভরযোগ্য ভাবি,
তাহলে যীশুর ঐতিহাসিক তথ্যকে কি আমাদের গ্রহণ করা উচিত নয়?