আমাদের মধ্যে কে আছেন যারা কিছু বিষয়কে অতিরঞ্জিত করেননি?
সপ্তাহশেষে আমি কী করেছি সেই বিষয়ে আমি হয়ত সম্পূর্ণ সৎ ছিলাম না।
আসলে আমি এখানেই ছিলাম, সন্তানদের সঙ্গে পুলের ধারে খেলছিলাম।
কিন্তু আমি সবাইকে বলেছি আমি প্রবল ঢেউয়ের মধ্যে
দারুণ স্পিডবোট চালাচ্ছিলাম!
হ্যাঁ !
আমরা সকলেই কিছু বিষয়ে অতিরঞ্জনের অপরাধ করি।
যেমন আমার এই নৌকাটি নেই।
কিন্তু আমাদের এই প্রবণতার দিকে মানুষ নির্দেশ করে
যখন তারা যীশুর এবং মানুষ কীভাবে তাঁকে মনে রেখেছে এই বিষয়ে কথা বলে।
কেউ বলবে হয়ত শিষ্যরা যীশুর গল্পের কিছু অংশ অতিরঞ্জিত করেছে।
যখন আমরা বাড়িয়ে অথবা বানিয়ে বলি, নিজেদের জীবনে,
সাধারণত তা নিজেদের আরো ভালো দেখাবার জন্য।
তাহলে শিষ্যরা কি যীশুর জীবন নিয়ে গল্প বানিয়েছে
অথবা কিছুটা অতিরঞ্জিত করেছে?
সম্ভবত, কিন্তু কয়েকটি কারণে আমার সন্দেহ আছে।
প্রথমত, সকল সুসমাচারের পুস্তকগুলোতেই,
আমরা বিভ্রান্তিকর এবং অপ্রাসঙ্গিক বিবরণ পাই
যা এগুলিকে প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ হিসাবে চিহ্নিত করে
যা সেই যুগের কল্পকাহিনী রচনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বিবরণগুলি আকর্ষণীয় অথবা চমৎকার নয়।
যেমন, এক প্রবল ঝড়ের সময়,
যীশু নৌকার পাটাতনের নীচে বালিশ নিয়ে শুয়ে আছেন।
লিনেনের কাপড় পরিহিত এক ব্যক্তির সম্পর্কে এক বিরল গল্প আছে,
আর যখন রক্ষীরা তাকে যীশুর সঙ্গে গ্রেপ্তার করতে যায়,
তারা তার কাপড় চেপে ধরে আর সে বিবস্ত্র হয়ে পালায়।
যীশু পিতরকে ডাকলেন, যার নৌকা তীর থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরে,
আর তারা ১৫৩ টী মাছ ধরে।
এটি বিচিত্রভাবে নির্দিষ্ট।
এগুলি তুচ্ছ খুচরো খবরের মত, যা মনে করে বলা হয়,
বানানো গল্পের মত নয়।
আজ মানুষ যখন কল্পকাহিনী লেখে, তারা এই ধরনের বিবরণ দেয়
গল্পকে আরো বিশ্বাসযোগ্য দেখাতে,
কিন্তু ১৮ শতকের আগে এই ধরনের লিখনশৈলী ছিল না।
তাছাড়া, শিষ্যরা যদি তা করত,
তার অর্থ তারা ইচ্ছা করে মিথ্যা বলছে।
এতে কি তাদের কোনো উদ্দেশ্য আছে?
যেমন, যদি তারা ইচ্ছা করে বানিয়ে বলে,
তাহলে তখন জীবিত মানুষের নাম কেন ব্যবহার করবে,
যাদের সহজেই জিজ্ঞাসা করা যেত এই ঘটনা ঘটেছিল কি না?
আমরা বাইবেলের বিভিন্ন অংশে যীশুর গল্প পড়ি।
যেমন, যীশু যখন রাজনৈতিক নেতাদের সামনে সাক্ষ্য দেন,
হেরদ এবং পন্তীয় পীলাত।
তিনি নীকদীম নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে একান্তে দেখা করেন।
তিনি যায়ীর কন্যাকে সুস্থ করেন এবং সিকন্দরের
এবং ও রূফের পিতা যীশুকে ক্রুশ বহন করতে সাহায্য করেন।
আপনি যদি অতিপ্রাকৃত এক যীশু সম্পর্কে পরিবর্তিত এবং কল্পনা ভিত্তিক বিবৃতি সৃষ্টি করেন,
তবে আপনি সত্য মানুষের নাম উল্লেখ করবেন না
সত্য স্থানে, যা আপনার শ্রোতারা সহজেই যাচাই করতে পারে।
সেই সঙ্গে আপনি নিজে যদি এক মহান কাহিনী লেখেন
যা আপনাকে ঈশ্বরের পুত্র যীশুর শিষ্য করে,
আপনি বিপথে গিয়ে
নিজেকে এবং অন্যদের নির্বোধ দেখাবেন না, দেখাবেন কি?
সুসমাচারগুলি যদি কল্পরচনা হত,
তাহলে যে শিষ্যরা প্রথম গির্জাগুলির নেতা হন
তারা নিজেদের অতিপ্রাকৃত না হলেও অন্তত অসাধারণ দেখাতেন।
কিন্তু আমরা তাদের অপরিপক্কতা এমনকী নির্বুদ্ধিতার গল্পই দেখি।
যাকোব এবং যোহন এক অবিশ্বাসী গ্রামে বজ্রপাত আনার জন্য বলেছিলেন।
যীশুর মৃত্যুর দিন পিতর তিনবার তাঁর শিষ্য হওয়ার কথা অস্বীকার করেন।
এক বা একাধিক ক্ষেত্রে, যীশুকে তাঁর শিষ্যদের মধ্যে বিবাদ থামাতে হয়েছে
কে শ্রেষ্ঠ হবে তাই নিয়ে।
আপনি যদি এমন কোনো গল্প আবিষ্কার করেন যা আপনাকে ক্ষমতা দেয়
অথবা পিতরের মত কোনো আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়,
আপনি এমনভাবে গল্প বলবেন না যেখানে আপনাকে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয় না
যে কোনো তত্বাবধান ছাড়া কাঁচি ব্যবহার করতে পারে না
প্রথমদিকের গির্জার কথা বললে,
সুসমাচারে বলা আছে যীশু পিতরকে শয়তান বলেছিলেন।
আপনারা জানেন, ঈশ্বরের চরম শ্ত্রু হল শয়তান।
আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন যদি যীশু আমাকে মুখের উপর শয়তান বলতেন,
আমি তাই নিয়ে টুইট করতাম না,
কিন্তু এক্ষেত্রে তা আছে কারণ ধরে নেওয়া যায় তা আসলে ঘটেছিল।
শেষে, আপনারা যদি গল্প বানান যীশুর ঈশ্বরের পুত্র হওয়া নিয়ে
এবংতার আমাদের মধ্যে থাকার বিষয়ে,
তাহলে আপনারা তাঁর মানবিকতার উপর জোর দেবেন কেন?
কেন বলবেন যে তিনি ক্লান্ত এবং ক্ষুধার্ত হন?
আপনারা এমন গল্প কেন বানাবেন যেখানে তিনি কাঁদছেন এবং রক্ত ঝরাচ্ছেন
যখন ক্রুশবিদ্ধ না হতে তিনি প্রার্থনা করছেন?
এমন গল্প আপনারা কেন বানাবেন যেখানে যীশুর হত্যা হয়
সম্ভাব্য সব থেকে ভয়ঙ্কর, পাশবিক এবং অপমানজনকভাবে?
আর যদি শিষ্যেরা এমন গল্পই বানায়
তাহলে ইতিহাস কেন বলে যে এর প্রতিরক্ষায় তাদেরকে হত্যা করা হয়েছিল?