আমি স্কুলের ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলি,
অথবা ছোটবেলার বন্ধুদের সঙ্গে অথবা দৈনন্দিন জীবনে যাদের সঙ্গে দেখা হয় তাদের সঙ্গে।
খ্রীষ্টধর্মে বিশ্বাসের বিরুদ্ধে একটি আপত্তি সব সময়েই থাকে
যা বারবার উঠে আসে,
এবং এক গুচ্ছ কারণের জন্য এর প্রতিক্রিয়া দেওয়াও সব থেকে দুষ্কর।
তারা প্রশ্ন করে যদি ঈশ্বর প্রেমময় এবং সর্বোচ্চ ক্ষমতাবান হন,
তাহলে পৃথিবীতে এত দুর্দশা এবং বিপদ কেন?
এই ধরনের প্রশ্নের কোনো সহজ উত্তর হয় না।
যেখানে খ্রীষ্টধর্ম সম্পর্কে অন্যান্য প্রশ্ন এবং সমালোচনা
নিয়ে প্রকাশ্যে বিতর্ক এবং আলোচনা করা যায়,
কষ্ট হল এমন কিছু যা আমরা অনুভব করি।
তাই কথোপকথনে সব সময়েই আবেগের এক মাত্রা থাকে।
আমরা যখন কষ্টের কথা বলি,
আমরা ঈশ্বরকে এই হিসাবের বাইরে রেখে তর্ক করতে পারি
যে মানুষের কষ্টের অধিকাংশই বিবর্তনেরই এক অংশ।
সেটি হল যোগ্যতমের বেঁচে থাকা,
যার প্রয়োজনেই দুর্বলের মুছে যাওয়াই প্রয়োজন।
কিন্তু ২১ শতকে আমরা কষ্টের কথা সেইভাবে বলি না।
যেমন, আপনি কি কল্পনা করতে পারেন যে কারোর অন্ত্যেষ্টির সময় সে বেঁচে উঠল
এবং প্রশংসার অংশ হিসাবে বলল দুর্বলের মৃত্যু হয়, যোগ্যতর বেঁচে থাকে?
সেটি কেবলই জীবন।
সেখানে উপস্থিত মানুষ নিজেদের মধ্যে কানাকানি করবে, এই ব্যক্তি কি ঠিক কথা বলছে?
অথবা মাঝে মাঝে আমরা অদ্ভুত কাজ করি যেমন এমন
ঈশ্বরের উপর ক্রুদ্ধ হই যাকে আমরা বিশ্বাস করি না,
কারণ আমাদের মনে হয় পৃথিবীর এক নির্দিষ্ট নিয়মে চলা উচিত আর তা হচ্ছে না।
দুর্দশা আর অমঙ্গল আমাদের কাছে সমস্যাজনক
কারণ আমাদের মধ্যে এই মতবাদ রয়েছে যে জীবন মূল্যবান
এবং আমাদের অস্তিত্ব অর্থবহ।
তাই দুর্দশা নিয়ে আমাদের যে সব প্রশ্ন আছে তা প্রকৃতপক্ষে আরো অর্থপূর্ণ হয়ে যায়
যখন এই সমীকরণে ঈশ্বর থাকেন
এবং ঈশ্বর কি আছেন এই প্রশ্ন,
পরিবর্তিত হয়ে যায় ঈশ্বর আপনি কোথায় -তে?
আরো ভালো, আপনি কোথায় ঈশ্বর?
দুর্দশার এক শক্তি আছে যা আমাদের অন্তঃস্থলে নিয়ে যায়
এবং এমন প্রশ্নের অবতারণা করে যা আমাদের মধ্যে আছে বলে আমরা জানতামই না।
অন্তঃস্থলের এই প্রশ্নগুলি জিজ্ঞাসা করা প্রয়োজন এবং তাই নিয়ে সংগ্রামও প্রয়োজন।
কিছু মানুষের প্রশ্ন সংক্ষিপ্ত এবং যথাযথ।
কেন ঈশ্বর? কেন?
এবং অন্যদের জন্য এটি সম্পর্কযুক্ত।
হে ঈশ্বর, আপনি কীভাবে তাদের এটি করতে দিলেন?
যখন আমাদের ঘনিষ্ঠজনেরা কষ্ট পায়।
এক বিচিত্র উপায়ে আমাদের ভালোবাসা আমাদের কষ্ট দেয়।
আমরা যদি তাদের ভালো না বাসতাম অথবা পরোয়া না করতাম, তাহলে কি আমাদের কষ্ট হত?
এটিই হল সেই পৃথিবীর মূল্য যেখানে অর্থপূর্ণ প্রকাশ
এবং ভালোবাসার অভিজ্ঞতা লাভ সম্ভব।
কারণ ভালোবাসা হল পছন্দ।
কেউ যদি আপনাকে বলে যে তারা আপনাকে ভালোবাসে,
এর এক অর্থ আছে কারণ এই শব্দগুলি স্বেচ্ছায় বলা হয়েছে।
কিন্তু আপনারা যদি দেখেন এই ব্যক্তি আপনাদের ভালোবাসতে বাধ্য হচ্ছে
অথবা যান্ত্রিকভাবে ভালোবাসছে, তাহলে এই শব্দগুলি ফাঁকা।
এই রকম পৃথিবীতে এমন কোনো কার্যপদ্ধতি মনোনয়ন করা সম্ভব
যা ভালোবাসাহীন অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে ধংসাত্মক
তাই একদিকে আমি ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিই আমাকে স্বাধীন ইচ্ছা প্রদান করার জন্য।
আর অপরদিকে,
মানুষের পছন্দের ফলে উদ্ভুত পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে আমি সংগ্রাম করি
যেমন মত্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো, হত্যা, অথবা উগ্রপন্থীদের কার্যকলাপ।
কিছু প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সর্বদাই কঠিন,
বিশেষ করে যখন দুর্দশা মানুষের পছন্দের ঊর্ধ্বে থাকে
যেমন প্রাকৃতিক বিপর্যয় অথবা ক্যানসারের মত অসুখ।
আমাকে কী আশা দেয়, যদিও এটি খ্রীষ্টধর্মের এক অনন্য দৃষ্টিকোণ
মানব ইতিহাসে প্রবেশকারী এক ঈশ্বর এবং যিনি আমাদের জন্য দুর্দশা ভোগ করেন।
যীশুর মধ্যে আমরা দেখি ঈশ্বর পৃথিবীতে আবির্ভুত হন এবং আমার যন্ত্রণা ভোগ করেন।
যীশু জানেন ভুল বোঝা কেমন,
বিশ্বাসঘাতকতা এবং প্রহৃত হওয়া কী।
ক্রুশের উপরে তিনি অনুভব করেন একাকিত্ব কী।
আমাদের বাইবেল লেখক এইভাবেই বিবৃত করেছেন।
তিনি বলেছেন, যীশুই হলেন একজন যিনি আমাদের দুর্বলতা সম্পর্কে সহানুভূতিশীল
কারণ তিনিই জানেন আমরা যা করি তার মধ্য দিয়ে যাওয়া কেমন।
দুর্দশা এবং আস্থা একত্রে ধরে রাখা কঠিন হতে পারে।
আপনারা যদি ভাবেন যে ঈশ্বর একজন স্বর্গীয় সমাজবিজ্ঞানী যিনি দুর্দশাগ্রস্ত জীবনের দিকে তাকান
আর বলেন সহ্য করে নাও।
কিন্তু সেই ঈশ্বরকে আমি যীশুর মধ্যে খুঁজে পাই না।
অথবা বাইবেলেও সেই ঈশ্বরের কথা আমি পড়ি না।
সি এস লুইসের বর্ণনায় সেই মুহূর্তেই বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে
যখন এক বন্ধু অপরজনকে বলে, কী তুমিও?
আমি ভাবছিলাম আমিই একমাত্র।
যীশুর মধ্যে আমরা এক ঈশ্বরকে দেখি যিনি আমাদের
দুর্দশায় প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, আমি জানি।
আমিও।