যোহনের সুসমাচারে আরো একটি গল্প আছে
যা এমন সময়ের কথা বলে যখন যীশু এবং তাঁর শিষ্যরা
একটি রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় এক জন্মান্ধ ব্যক্তিকে দেখেন।
শিষ্যেরা পৃথিবীকে অত্যন্ত সরলভাবে দেখতেন
এবং এই ব্যক্তির দুর্দশাকে পাপের সঙ্গে যুক্ত করেন।
এবং তাই তারা যীশুর দিকে তাকিয়ে বলেন, "রাব্বি,
কে পাপ করেছিলো? এই ব্যক্তি না তার অভিভাবকরা যে সে জন্মান্ধ হল? "
যীশুর কাছে যথারীতি কোনো সরল উত্তর ছিলো না।
তিনি বললেন, "তোমরা ভুল প্রশ্ন করছো।
তোমরা অভিযুক্ত করার জন্য কাউকে খুঁজছো।
এখানে কোনো কার্যকারণ প্রভাব নেই।
বরং দেখো ঈশ্বর কী করতে পারেন।"
খ্রীষ্টধর্ম প্রাথমিকভাবে কোনো পন্থা ব্যাখ্যার উপর মনোনিবেশ করে না
অথবা দুর্দশা কেন ঘটে তার উত্তর দেয় না।
পরিবর্তে, যীশু আমাদের দুর্দশার প্রতি সাড়া দেওয়ার আহ্বান জানান।
মাইক আয়াকোনেল্লি নামে এক লেখক তার একটি গ্রন্থে একটি গল্প বলেন
সেই সময়ের যখন তার কন্যা গুরুতর অসুস্থ ছিলো
এবং তিনি হাসপাতালের অপেক্ষা গৃহে ছিলেন।
তিনি জানতেন একটি দরজার পিছনে তার কন্যা জীবনের জন্য যুদ্ধ করছে
এবং অবস্থা ভালো নয়।
তার স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া ছিল প্রার্থনা করা।
এবং যখন তিনি তার চেষ্টা করছিলেন, তিনি চোখ বন্ধ করতে পারছিলেন না
এবং ঘরের অন্যান্য মানুষদের দিকে তাকাচ্ছিলেন।
একমাত্র তার সন্তানই অসুস্থ ছিলো না
এবং কাতর এবং তিনিই একমাত্র অভিভাবক ছিলেন না যিনি ভীত।
তিনি যখন প্রার্থনা করার চেষ্টা করছিলেন,
তিনি উপলব্ধি করেন যে তিনি শুধু তার সন্তানের জন্য প্রার্থনা করতে পারছিলেন না
কারণ বিশ্বাস শুধু নিজের জীবনকে আরো ভালো করার জন্য নয়।
পরিবর্তে, তিনি সেই ঘরের সব অভিভাবকদের জন্য প্রার্থনা করেন,
দরজার পিছনে থাকা সব শিশুর জন্য।
ঈশ্বরকে এবং মানুষকে ভালোবাসার অর্থ শুধু ঈশ্বরের
কাছে নিজের পরিস্থিতি পরিবর্তনের আবেদন জানানো নয়,
বরং এই কামনা করা যে ঈশ্বর যেন এই পৃথিবীকে পরিবর্তিত করেন।
এটি শুধু আমাদের দুর্দশার অন্ত করার জন্য প্রার্থনা নয়,
বরং সব দুর্দশার অন্তের জন্য প্রার্থনা, প্রত্যাশা এবং কাজ করা।
খ্রীষ্টধর্ম দুর্দশা থেকে পালানোর প্রতিশ্রুতি দেয় না।
পরিবর্তে, বাইবেল জানায় কীভাবে দুর্দশা আমাদের উপকার করতে পারে
কারণ দুর্দশা সহিষ্ণুতার জন্ম দেয়
এবং সহিষ্ণুতা জন্ম দেয় চারিত্রিক দৃঢ়তার
এবং চারিত্রিক দৃঢ়তা জন্ম দেয় প্রত্যাশার।
পরে, তা বলে যখন আমরা পরীক্ষার সম্মুখীন হই তাকে আনন্দ হিসাবে বিবেচনা করা
সেইসঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকেও কারণ তা আমাদের মধ্যে সহিষ্ণুতার সৃষ্টি করে।
আমাদের চারপাশের পৃথিবী যা আকুল হয়ে চাইছে, তা হল প্রত্যাশার মানুষ,
দৃঢ় মানুষ,
সৎ চরিত্রের মানুষ, যেসব মানুষের ঈশ্বরের সেবা করার সহিষ্ণুতা আছে
এবং অন্যান্যরা যা তারা সর্বোতকৃষ্টভাবে করতে পারে।
আমরা সকলেই দুর্দশাহীন পৃথিবীর জন্য আকুল।
যদিও এটি খুবই বড়ো ব্যাপার, তবে
যারা পৃথিবীর জন্য সব থেকে বেশি কিছু করতে পেরেছে
প্রায়শই তারাই সব থেকে বেশি দুর্দশা ভোগ করেছে।
উদাহরণ হিসাবে, নেলসন ম্যান্ডেলা,
যাকে অন্যায়ভাবে ২৭ বছরের কারাবাস দেওয়া হয় এবং মুক্তির সময়,
তিনি প্রথমেই যারা তাকে কারাগারে পাঠায় তাদের ক্ষমা করার সিদ্ধান্ত নেন
এবং জীবনের অবশিষ্ট দিন দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবিদ্বেষ প্রশমিত করায় নিয়োগ করেন।
অথবা এলিজাবেথ এলিয়ট সম্পর্কে কী বলা যায়?
তার স্বামী ১৯৫০-এর সময় ইকুয়েডরের উপজাতিদের জন্য মিশনারি ছিলেন
এবং তার এক যাত্রার সময় তিনি যে উপজাতিদের সেবা করছিলেন, তাদেরই একজনের হাতে প্রাণ হারান।
এলিজাবেথের প্রতিক্রিয়া কী ছিল?
পরবর্তী দুবছর তিনি সেই উপজাতিদের মিশনারি হয়েই কাটান
যারা তার স্বামীর মৃত্যুর জন্য দায়ী ছিল।
অবিশ্বাস্য।
তারা এই পৃথিবীকে নবরূপ দিয়েছে তাদের দুর্দশার কারণে
এবং কীভাবে তারা তদের যন্ত্রণার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।
নিজের যন্ত্রণা অপরের উপর দেওয়ার পরিবর্তে,
তারা যীশুর মত, ক্ষমা করার সিদ্ধান্ত নেন,
যা নিয়ে আসে উপশম, মুক্তি এবং শান্তি।
আমাকে যা আরো প্রত্যাশা দেয় তা হল অন্তিম পর্ব যা নিয়ে খ্রীষ্টধর্ম আলোচনা করে।
এতে এমন এক অন্তের কথা বলা হয়েছে যেখানে যন্ত্রণা এবং দুর্দশা আর থাকবে না।
বাইবেলের অন্তিম পুস্তক যার নাম প্রকাশিত বাক্য তাতে,
রচয়িতা যোহন লিখছেন,
এবং আমি এক উচ্চ কন্ঠস্বর শুনলাম যা বলছে, "দেখো,
ঈশ্বরের আবাসস্থল মানুষের সঙ্গে।
তিনি তাদের অশ্রু মুছে দেবেন,
এবং মৃত্যু আর থাকবে না।
থাকবে না শোক, কান্না, যন্ত্রণা, আর নয়,
কেন না বিগত সেই সব জিনিস চলে গেছে।"
আমার ভিতরের একটি অংশের ইচ্ছা আমি দুর্দশার এক সহজতর উত্তর পাই।
আমি প্রায়ই ভেবেছি যদি কোনো দুর্দশাই না থাকতো,
মানুষের পক্ষে আস্থা রাখা কি সহজতর হত?
আমি এই বিষয়েও সচেতন যে আমি হয়ত কোনো উত্তর দিতে পারিনি
যা এই পর্বে আপনারা প্রত্যাশা করেছিলেন।
আমি আরো সচেতন কারণ আমি এখন নিউ ইয়র্কের গ্রাউন্ড জিরোতে রয়েছি,
ভাবছি ২০০১-এর কথা যখন আমি কিশোর ছিলাম,
খবর দেখছিলাম, সেই মর্মান্তিক ঘটনার বিবরণ দেখছিলাম
যখন হাজার হাজার মানুষ সেই দিনে তাদের প্রাণ হারায়।
এই ঘটনা কীভাবে ঘটল?
কিন্তু চূড়ান্ত ভাবনা হিসাবে আমি আপনাদের এই
কথাই বলতে পারি যে নিজের মধ্যে আমি কোথায় আছি।
এক দিকে আমি বিশ্বাস করি যে ঈশ্বর মহান,
কিন্তু অপরদিকে আমার এখনো কিছু প্রশ্ন আছে যা নিয়ে আমি সংগ্রাম করি।
হয়ত বাকি জীবন আমার এই প্রশ্ন থেকেই যাবে।
কিন্তু যীশুর জীবনের দ্বারা আমি উদ্বুদ্ধ,
আর্তদের সেবা করা, ভগ্নহৃদয়দের সঙ্গে শোক পালন করা,
এবং সেই আশা সঞ্চারিত করা যে এক দিন,
ঈশ্বর সব কিছু নবরূপে সৃষ্টি করবেন।