একজন যুবকর্মী হিসাবে আমার বিশেষ সুবিধা ছিল
হাজার হাজার যুবদের সঙ্গে আমার বিশ্বাস নিয়ে কথা বলার।
আমি সব ধরনের পারস্পরিক বার্তালাপ, হালকা মেজাজের বিতর্ক খুব উপভোগ করতাম,
এবং সব প্রশ্নও আমার খুব ভালো লাগতো।
আমাকে সম্ভাব্য সব ধরনের প্রশ্ন করা হয়েছে আমার পোশাক,
আমার প্রেমজীবন, স্বর্গ, নরক, এলিয়েন, এমনকী স্যান্টা সম্পর্কেও।
এবং প্রায়শই আমাকে সৃষ্টির গল্প
এবং আদম ও হবার সম্পর্কেও জিজ্ঞাসা করা হবে।
আর আমি এই কৌতূহল বুঝতে পারি,
কারণ আপনারা যদি বাইবেলের প্রথম গ্রন্থটি কখনো পড়ে থাকেন,
আদিপুস্তক, জগত সৃষ্টির গল্প,
তার বিস্তারিত বিবরণ একটু বিভ্রান্তিকর হতে পারে।
ঈশ্বর এই পৃথিবী ছয় দিনে সৃষ্টি করেন।
ছয় দিন?
আপনারা কি হাসছেন?
এই স্থানের আয়তন দেখেছেন?
ষষ্ঠ দিনের শেষে তিনি আদম ও হবাকে সৃষ্টি করেন
এবং তাদের এদনের উদ্যানে রাখলেন।
তাদের কি নাভি ছিল?
কেন থাকবে?
তারা তাদের সন্তানদের নাভির কথা কীভাবে ব্যাখ্যা করেছিল?
এখানে লেখা আছে যে উদ্যানে, একটি জ্ঞানবৃক্ষ ছিল ভালো এবং মন্দ জ্ঞানের,
এবং তাদের সেই বৃক্ষের ফল খাওয়ার অনুমতি ছিলো না।
সেটি কি একটি আপেল ছিল?
আমরা কেন সব সময় ভাবি সেটি একটি আপেল ছিল?
বাইবেলে কোথাও এই কথা বলা নেই৷
হয়ত নাসপাতি, অথবা আম কিংবা পেপে ছিল।
তারপর একদিন এক কথা বলা সাপ জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসে
এবং আদম ও হবাকে সেই বৃক্ষের ফল খাওয়ার লোভ দেখায়।
এবং এই কথা বলা সাপ আদম ও হবার মনে সন্দেহ সৃষ্টি করতে সক্ষম ছিল
তারা যাতে ঈশ্বরের সদগুণকে প্রশ্ন করতে পারে
এবং তাদের নিশ্চিত করে যে ঈশ্বর তাদের আটকে রেখেছেন।
তাই আদম এবং হবা ঈশ্বরের কথার বিরুদ্ধে যায়,
সেই বৃক্ষের ফল খায়, এবং তাদের চোখ খুলে যায়।
সেই মুহূর্তেই পৃথিবীতে অপরাধবোধ এসে যায়।
তারা বুঝতে পারে যে তারা উলঙ্গ
লজ্জায় অবনত হয় এবং জঙ্গলের মধ্যে লুকোতে যায়।
গোটা বিশ্বের খ্রীষ্টানরা এই গল্পের ব্যাখ্যার বিষয়ে দ্বিমত হয়।
কেউ মনে করে, ঘটনাটি সেইভাবেই ঘটেছিল, যেমন লেখা আছে।
অন্যেরা বলবে আদিপুস্তকের প্রথম কয়েকটি অধ্যায়
কাব্যশৈলীতে লেখা হয়েছে এবং তাই তাকে আক্ষরিকভাবে পড়া যাবে না।
আমার আদিপুস্তক পড়ার এবং তার থেকে শেখার কারণ
হল এটি প্রথমেই লেখা হয়েছিল।
এটি বিজ্ঞানের পাঠ্যবই নয়।
এটি রচিত হয়েছিল আমাদের ঈশ্বরের প্রকৃতি সম্পর্কে জানানোর জন্য,
কেন তিনি আমাদের সৃষ্টি করেছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে আমাদের যে সম্পর্ক।
আপনারা দেখুন, আপনারা এই গল্প আক্ষরিক অর্থে বিশ্বাস করুন বা না করুন,
আমার বিশ্বাস, আদম ও হবার যা হয়েছিল তা আজ সত্যি।
যেমন, আমি জানি লুকোতে চাওয়া ঠিক কেমন।
আমি যখন কিছু গোলমাল করি তখন লজ্জার অনুভূতি কেমন আমি তা জানি।
আমি জানি আমি যা নই তার ভান করা কেমন
যাতে এই পৃথিবীর কেউ জানতে না পারে আমি প্রকৃতপক্ষে কেমন।
কিন্তু আমরা এইরকম অনুভব করি কেন?
মাঝে মাঝে আমাদের ব্যর্থতা ভুলে যাওয়া এত কঠিন কেন
অথবা সঠিক কাজ করা বা কাউকে ক্ষমা করা?
অন্তরের এই ভঙ্গুরতা নিয়ে আমাদের এত টানাপোড়েন কেন
যা আমাদের নিজেদের থেকে, অন্যের থেকে এবং ঈশ্বরের থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়?
মানবিকতা কি সর্বদাই এমন ছিল?
ঈশ্বরের কীভাবে আমাদের সৃষ্টির ইচ্ছা হল?
বৃক্ষের ফল খাওয়া এবং জঙ্গলে লুকোবার আগে আদম এবং হবা কেমন ছিল?
আমাদের বলা হয়েছিল তাদের ঈশ্বরের প্রতিচ্ছবি হিসাবে নিখুঁত করে সৃষ্টি করা হয়েছিল,
যাতে তাদের কোনো লজ্জাই ছিল না এবং তারা স্বয়ং ঈশ্বরের পাশেই হেঁটেছিল।
আর তাই আমাদেরও যদি ঈশ্বরের প্রতিচ্ছবি হিসাবে সৃষ্টি করা হয়ে থাকে,
তাহলে আমাদের ঈশ্বরের প্রকৃতি আয়ত্ত করা প্রয়োজন
যাতে আমরা নিজেদের আরো ভালো করে বুঝতে পারি।
সমস্যা হল ঈশ্বর হলেন সামান্য এক রহস্য, ভালো প্রকারের।
ঈশ্বর হলেন তিনের মধ্যে এক, পিতা, পুত্র এবং পবিত্র আত্মা।
ঈশ্বর হলেন স্বয়ংসম্পূর্ণ সম্প্রদায় যাঁর সৃষ্টি এবং বন্টন করার ইচ্ছা রয়েছে।
এবং আমার ধারণা, মানবিকতা যখন শ্রেষ্ঠ অবস্থায় থাকে, তা ঈশ্বরের প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে,
যেমন যখন আমরা উৎকৃষ্ট শিল্পকলা সৃষ্টি করি, প্রযুক্তিগত সাফল্য অর্জন করি
এমনকী যখন অভিভাবকদের কথা ভাবি যারা তাদের ভালোবাসা ভাগ করে নিতে উদগ্রীব
এক বর্ধমান পরিবারের সঙ্গে।
এবং তাই ঈশ্বর হবাকে সৃষ্টি করার আগে,
বলেছিলেন, পুরুষের জন্য একা থাকা ভালো নয়
কারণ ঈশ্বর আমাদের সৃষ্টি করেছিলেন জানতে পারার, দেখতে পাওয়ার
গৃহীত হওয়ার, ভালোবাসার এবং ভালোবাসা লাভ করার জন্য।
এবং যীশুকে আমার সঙ্গে তাই করতে হবে।
এটি আমার ইচ্ছা নয় অতি ধর্মীয় হওয়ার।
এটি হল আমি কী এবং কে সেই সম্পর্কে ঈশ্বরের মতবাদ।
এবং আমার তা প্রয়োজন কারণ আমি এই সব বিষয় বিশ্বাস করতে যথেষ্ট সংগ্রাম করি।
আমার সংগ্রাম হয় এই কথা বিশ্বাস করতে যে আমি গৃহীত হয়েছি,
নিজেকে পরিচিত করাতে, ভালোবাসা লাভ করতে এমনকী ক্ষমা পেতে।
এবং আমি যথেষ্ট নিশ্চিত যে এই বিষয়ে আমি একা নই।