মানব ইতিহাসে যীশুর আবির্ভাবেই সব কিছু প্রকৃতপক্ষে চাঞ্চল্যকর হয়ে ওঠে।
তিনি হলেন মানবরূপী ঈশ্বর।
যোহনের সুসমাচার যীশুর পৃথিবীতে আগমনকে এই ভাবে বিবৃত করেছে।
ঈশ্বর দেহরূপ ধারণ করলেন এবং আমাদের মধ্যে বাস করলেন।
যীশু আমাদের নিকটবর্তীতে ঘোরাফেরা করতেন।
ঈশ্বর তাঁর বার্তা স্বর্গ থেকে উচ্চকন্ঠে ঘোষণা করেননি।
পরিবর্তে তিনি আমাদেরই একজন হয়ে ওঠেন।
ঈশ্বর যদি অহংকারী অথবা নিরাপত্তাহীন হতেন,
তিনি আলোর ঘূর্ণিঝড়ের মধ্যে বিস্ফোরণের মত দৃশ্যে অবতীর্ণ হতেন,
ভক্ত অনুরাগী এবং বিপুল শব্দের মধ্যে।
কিন্তু তাও বিপরীতটিই সত্য।
এবং এর মাধ্যমেই তাঁর অবশিষ্ট জীবনের সুর বাঁধা হয়ে যায়, তিনি কী বলেন এবং তিনি কী করেন।
তিনি রাজপ্রাসাদে জন্মগ্রহণ করেননি।
তিনি বেথলেহেমের এক আস্তাবলে জন্মেছিলেন।
এবং তিনি কোনো সম্পন্ন পরিবারে জন্মাননি।
পরিবর্তে রাজা হেরোদের উৎপীড়নের ফলে তাঁর পরিবারকে বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে বেড়াতে হয়।
যীশুকে তাঁর শৈশবের অনেকটা সময় মিশরে কাটাতে হয়
প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে কূপের ধারে এইরকম একটি সমাধিগৃহের পাশে।
আমরা প্রায়ই ভুলে যাই যে যীশু এক সময় বিদেশে থাকা এক আশ্রয়প্রার্থী ছিলেন
যার সমগ্র পরিবার স্বদেশে ফিরলে উৎপীড়নের আতঙ্কে থাকতো।
চারটি সুসমাচারের পুস্তকের মাধ্যমে আমরা তাঁর জন্ম সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারি
এবং তারপর তাঁর সেবাকার্য যখন তাঁর বয়স হয় ৩০ বছর।
এর মধ্যবর্তী সময় সম্পর্কে জানতে আমি খুবই উৎসাহী
আমি বলতে চাইছি, যীশু কীভাবে
এই নাজারেথে এইরকম রাস্তায় বড়ো হয়ে ওঠেন?
কিশোর হিসাবে তিনি কেমন ছিলেন?
খুব ভালো ছেলে হওয়ার জন্য কি তাঁকে নিয়ে ঠাট্টা করা হত?
তিনি কি কখনো অন্ধকারকে ভয় পেতেন?
আকর্ষণ নিয়ে কি তাঁর কোনো সমস্যা হত?
কেউ কি তাঁর প্রতি আকৃষ্ট ছিল?
আমরা যা জানি না তাই নিয়ে অনুমান করা খুবই মজাদার।
কিন্তু আমার জন্য, আমরা যা জানতে পারি, তার মূল কথা হল এইটি।
ঈশ্বর মানবরূপ ধারণ করেন এমনভাবে জীবন যাপন করতে
যা আমরা কখনোই পারতামনা এবং এমন মৃত্যু বরণ করতে
যার সম্মুখীন আমাদের কখনোই হতে হবে না।
এবং এই হল সত্য কথা।
যীশু যদি শুধু উদ্ধারের উদ্দেশে আসতেন,
তিনি নির্দিষ্ট এক সপ্তাহ শেষে একজন প্রাপ্তবয়স্ক হিসাবে পৃথিবীতে আসতে পারতেন
এবং আমাদের জন্য নিজের জীবন সমর্পণ করতেন।
কিন্তু তার পরিবর্তে আমরা পৃথিবীতে ঈশ্বরের ৩৩ বছরের জীবৎকাল পেয়েছি।
সেখানে ঈশ্বরের ৩৩ বছরের জীবৎকালে তিনি মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গঠন করেছেন,
এমনকী বহিষ্কৃতদেরও গ্রহণ করেছেন,
শত্রুদেরও প্রেম প্রদর্শন করেছেন,
এবং তাদের উপশম করেছেন যারা তাঁকে ধন্যবাদ দেওয়ারও প্রয়োজন অনুভব করেননি।
যীশু আমাদের দেখান প্রকৃতপক্ষে ঈশ্বর কেমন।
আমি সেই সাপের কথা বলেছিলাম,
সেই কথা বলা সাপ যে আদম এবং হবার মনকে বিভ্রান্ত করেছিল।
এটি জানায় আমরা কীভাবে প্রতারিত হতে পারি
ঈশ্বরের গুণকে সন্দেহ করে অথবা ঈশ্বরের প্রতি আদৌ আস্থা রাখা যায় কিনা তাকে সন্দেহ করে।
আমি সুসমাচারের গল্পকে যীশুর ৩৩ বছরের দাবি হিসাবে দেখি
যে তিনি কতটা বিশ্বাসভাজন,
তাঁর নম্র আবির্ভাব থেকে নিষ্ঠুর মৃত্যু পর্যন্ত।
আমরা যা করি তিনি তার সব অভিজ্ঞতাই লাভ করেছেন,
যে যন্ত্রণা আমরা অনুভব করি, যে কষ্ট আমরা ভোগ করি এবং সব রকমের পরীক্ষা।
তিনি সব অতিক্রম করেছেন এবং তিনি পাপ করেননি।
তিনি আমাদের লোভ এবং সংগ্রামের অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন।
আক্ষরিকভাবে তিনি আমাদের জীবনই যাপন করেছেন।
কিন্তু আমার জন্য তিনি ভালো বন্ধুর থেকেও বেশি।
তিনি ভালো শিক্ষকের থেকেও বেশি।
তিনি আমার ত্রাতা এবং তিনি তা করতে ইচ্ছুক।
তাঁর ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার আগে আগে সব কিছু
কত অপরিশোধিত এবং কত বাস্তব।
মৃত্যুর দিকে অগ্রসর হচ্ছেন জেনেও তিনি স্বেচ্ছায় যিরুশালেমে যান।
যীশুর ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার আগের রাতে,
আসন্ন সময় নিয়ে তাঁর ভীতি সম্পর্কে প্রার্থনা করতে তিনি গেথসেমেনের উদ্যানে যান।
এইরকম এক গাছের তলায়
এবং সমগ্র শহরের পটভূমিকে দেখে,
তিনি হাঁটু মুড়ে বসে স্বর্গে তাঁর পিতার উদ্দেশে কাঁদতে পারতেন।
আক্ষরিকভাবে রক্ত ঝরা পর্যন্তই তিনি তাঁর পিতার উদ্দেশে কাঁদতে থাকেন
তাঁর গভীর উদ্বেগের কারণে।
কিন্তু যীশু যা প্রার্থনা করেন তা হল
পাপের ক্ষমা নিবেদন করার অন্য কোনো উপায় আছে কিনা,
মানবজাতিকে এই কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার অন্য কোনো উপায় আছে কিনা যে তারা আসলে কে,
ভগ্ন মানুষকে উপশম করার অন্য কোনো উপায় আছে কিনা,
তাহলে এর পরিবর্তে তাই করা হোক।
আমরা প্রকৃতপক্ষে কখনোই সম্পূর্ণরূপে জানবো না যীশু আমাদের জন্য কী অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছেন।
যেখানে অন্যান্য ধার্মিক ধারণা মনোনিবেশ করে আমরা কীভাবে ঈশ্বরকে লাভ করতে পারি অথবা তাঁকে সন্তুষ্ট করতে পারি,
বাইবেলের গল্প, যীশুর গল্প,
ঈশ্বর কতদূর যাবেন
আমাদের কাছে পৌঁছতে।